জাতীয়

নগরজুড়ে সুনসান, চলছে ফাঁকা যানবাহন

নির্বাচনের জন্য চার দিনের সরকারি ছুটি সারাদেশের অফিস-আদালতকে থমকে দিয়েছে। শহরগুলো আজ নিঃসঙ্গ, অফিসের তৎপরতা নেই কোথাও। রাজধানীর সড়কগুলোও লাগছে অচেনা। যাত্রীর কমি, গাড়ির ধীর ভ্রমণ সব মিলিলে এ যেন নগরের ভিন্ন এক রূপ। ভোটের উৎসবের প্রস্তুতিতে যেন নগরজুড়ে নীরবতা, শুধু ফাঁকা যানবাহনের হালকা আওয়াজ ভেসে আসে চারপাশে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শ্যামলী, শিশুমেলা, আগারগাঁও, তালতলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। নেই কোথাও কোন যানজট বা গাড়ির জটলা। দীর্ঘক্ষণপর পর দুই একটি গণপরিবহনের দেখা মিললেও যাত্রী সংকটে আসন থাকছে ফাঁকা। সাধারণ সময়ে বাস পয়েন্টগুলোতে গাড়ির অপেক্ষায় যাত্রী থাকলেও সড়কে আজ যাত্রীর অপেক্ষায় বাস পয়েন্টে গণপরিবহনের অপেক্ষার চিত্র দেখা গেছে। বাস পয়েন্টে গুলোতে গণপরিবহন দাড়িয়ে যাত্রীর জন্য হাঁক ডাক ছাড়তেও দেখা গেছে। এছাড়াও সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এদিকে, সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য দেখা গেছে। যেখানে সাধারণত দিনে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার হয়ে যেতো, যানবাহনের হর্ন ও মানুষের উপস্থিতিতে কোলাহলপূর্ণ থাকতো, সেসব সড়ক এখন সুনসান নীরব। তবে সীমিত হারে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।

বিহঙ্গ পরিবহনের চালকের সহকারী বলেন, রাস্তায় যাত্রী নেই। সাধারণ সময়ে একটিপে যে ভাড়া আদায় হয়, আজ তিন টিপের যাত্রী মিলিয়েও সেই পরিমাণ যাত্রী হচ্ছে না। সব ফাঁকা। খরচের টাকাও ওঠেনাই।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা চার দিনের ছুটি গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে; যা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও নির্বাচন ও পূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকবে টানা পাঁচদিন। আজ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এর আগে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। একইসঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারির বিশেষ ছুটিও বহাল রাখা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সাথে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সাধারণ ছুটি চার দিনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত’ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি থাকায় সেখানে সর্বমোট পাঁচ দিনের ছুটি কার্যকর হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মূল দিন নির্ধারিত রয়েছে

কেআর/জেএস