সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ন্যূনতম এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক এই প্রার্থীর জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৭ জন ভোটারের এই এলাকায় ১৭ হাজার ৪০৩ ভোট ছিল জামানত রক্ষার ন্যূনতম সীমা। এখানে বিএনপির রফিকুল আলম মজনু (১,১৯,৯০৪ ভোট) ও জামায়াতের এসএম কামাল উদ্দিন (৮৫,৬১৫ ভোট) ছাড়া অন্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কার্যত কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি। জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন মাত্র ৯৪০ ভোট।
ফেনী-২ (সদর) সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। ২ লাখ ২৯ হাজার ২০৩টি ভোটের বিপরীতে জামানত ফেরাতে প্রয়োজন ছিল ১৮ হাজার ৩৩৬ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (১,৩১,২১০ ভোট) এবং ১১ দলীয় জোটের এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু (৮০,০৫৮ ভোট) ছাড়া বাকিরা নামমাত্র ভোট পেয়েছেন। বিশেষ করে জেএসডি ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরা ২৫০ ভোটের কোটাও পার করতে পারেননি।
এছাড়া ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ২২ হাজার ৬৩২ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু (১,৫৭,৪২৫ ভোট) এবং জামায়াতের ফখরুদ্দিন মানিক (১,০৮,১৬০ ভোট) ছাড়া বাকি ৬ প্রার্থীর কেউই এই লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া দূরে থাক, ১০ হাজারের ঘরও পার করতে পারেননি। জাতীয় পার্টির আবু সুফিয়ানসহ (১,৪২৭ ভোট) অন্য ৫ প্রার্থী এখানে ধরাশায়ী হয়েছেন।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে/জেআইএম