রাজধানী শহরের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির এক নীরব আশ্রয় হয়ে আছে হাতিরঝিল। এরই এফডিসি সংলগ্ন দাবার কোট পার্ক এলাকায় বসন্তের আগমনে শিমুল-পলাশের লালচে ফুলে ভরে উঠেছে গাছের ডালপালা। এখানে প্রতি বছর বসন্ত এলেই তৈরি হয় এক অনন্য দৃশ্যপট।
নগর জীবনের কোলাহলের মাঝখানে এই রঙিন সৌন্দর্য যেন স্বস্তির এক টুকরো নিঃশ্বাস। এই সবুজ প্রান্তরে ফুটে থাকা রক্তিম ফুল শুধু চোখের আরামই নয়, পাখিদেরও টানে কাছে। কোথাও ডালে বসে ছোট পাখিরা মধু খোঁজে, কোথাও আবার ঝুলন্ত গুচ্ছফুলে আটকে যায় আলো-ছায়ার খেলা।
দাবার কোট পার্কে বসন্ত এলেই নীরবে রং ছড়িয়ে যায়। গাছভরা রক্তিম ফুলেদের উপস্থিতি নগরবাসীকেও স্বস্তি দেয়। শুকনো ডালের ফাঁকে ফাঁকে লাল শিমুল ফুলের বিস্তার—নির্জন আকাশের পটভূমিতে যেন আগুনরঙা নকশা। এই দৃশ্য যেন বসন্তের আগমনি বার্তা বহন করে। যেন ঝুলন্ত গুচ্ছে বসন্তের ঘোষণা।
আরও পড়ুনসংকটে উপকূলের মহিষ পালনঘন গুচ্ছবদ্ধ কমলা-লাল ফুল প্রকৃতির উচ্ছ্বাসকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। আলো-ছায়ার কোমল মেলবন্ধনের সঙ্গে চোখ জুড়ানো এই ফুলগুলো ঢাকাবাসীকে প্রশান্তি দেয়। ফুলে মগ্ন পাখির নীরব উপস্থিতি। কোথাও একটি ছোট পাখি ডালে বসে ফুলের মধু খুঁজছে। নগর প্রকৃতির এক জীবন্ত মুহূর্ত, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের কথা।
ফুলের পাপড়ি, পরাগ ও সবুজ কুঁড়ির সূক্ষ্ম বিন্যাস প্রকৃতির নান্দনিক কারুকার্যকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ডালজুড়ে লাল প্রস্ফুটন—দর্শনার্থী বা পথচারীরা বসছেন সেই মুগ্ধতা দেখতে। বসন্ত এলেই এ গাছে ফোটে টকটকে লাল, হলুদ ও লালচে-কমলা রঙের মনোমুগ্ধকর ফুল।
তবে হাতিরঝিলের দাবার কোর্ট এলাকায় দেখা যায় আগুনরাঙা ‘লাল পলাশ’ আর শিমুল ফুল, যা পুরো পরিবেশকে রাঙিয়ে তোলে এক অনন্য বসন্তের আবহে। পলাশ ফুল যেন আগুনের রঙে লেখা বসন্তের এক নীরব কবিতা। শুকনো ডালপালার বুক চিরে যখন টকটকে লাল-কমলা পাঁপড়ি একসঙ্গে ফুটে ওঠে, তখন চারপাশের নির্জন প্রকৃতিও হঠাৎ প্রাণ ফিরে পায়।
আরও পড়ুনশখ থেকে পাখির ব্যবসা, মাসে বিক্রি ৩ লাখতাই তো দূর থেকে মনে হয় গাছজুড়ে জ্বলছে অগ্নিশিখা, আর কাছে গেলে দেখা যায় কোমল পাঁপড়ির ভাঁজে লুকিয়ে আছে মৃদু সৌরভ ও অদ্ভুত এক উষ্ণতা। নীল আকাশ, ধুলোমাখা পথ আর সবুজের ফাঁকে পলাশের এই দীপ্ত রং বসন্তকে করে তোলে আরও উচ্ছল, আরও জীবন্ত। তাই পলাশ শুধু একটি ফুল নয়—এ যেন ঋতুর আনন্দ, প্রেম আর নতুন আশার রক্তিম প্রতীক।
এসইউ