সকালে অফিস, ট্রাফিক, ডেডলাইন – তারপর সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরা। তাহলে কি ভালোবাসা দিবস ক্যালেন্ডারে শুধু লাল দাগ হয়ে থেকে যাবে? একেবারেই না।
সম্পর্ক বড় আয়োজন দিয়ে টিকে থাকে না, সম্পর্কের মূল নির্যাস থাকে ছোট ছোট মনোযোগী মুহূর্তে। তাই অফিস করেও দিনটি অর্থবহ করে তোলা সম্ভব - যদি পরিকল্পনায় থাকে আন্তরিকতা।
১. দিনের শুরুতেই আবেগের বিনিয়োগদিনের শুরুটা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। ইতিবাচক যোগাযোগ পুরো দিনের আবেগকে প্রভাবিত করে। তাই সকালের শুরুটা যদি মন মতো না হয়ে থাকে, এখনো সময় আছে শুধরে নেওয়ার। একটি ছোট্ট ভয়েস নোট, হাতে লেখা নোট বা নাশতার পাশে একটি বার্তা - সম্পর্কে উষ্ণতা যোগ করতে পারে। গটম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ‘ইমোশনাল কানেকশন’ সম্পর্কের সন্তুষ্টি বাড়ায়।
২. কাজের ফাঁকে ছোট্ট সংযোগব্যস্ততার মধ্যেও একটি সচেতন বিরতি নিন। দুপুরের খাবারের সময় পাঁচ মিনিটের ভিডিও কল, বা একটি আন্তরিক মেসেজ দূরত্ব কমায়। নিয়মিত ও স্পষ্ট যোগাযোগ ভুল বোঝাবুঝি কমায় এবং আবেগীয় নিরাপত্তা তৈরি করে। দুজনই সারাদিন ব্যস্ত থাকলেও ওই ছোট্ট মেসেজটি আপনাদের কাছাকাছি অনুভব করাবে।
বড় কোনো পরিকল্পনা করতে না পারলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অফিস শেষে কাছের ক্যাফেতে ৩০ মিনিট, অথবা বাসায় ফিরে একসঙ্গে চা বানানো - এগুলোই হতে পারে আপনার ‘মাইক্রো-ডেট’। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং জানিয়েছে, একসঙ্গে সময় কাটানো কর্টিসল কমায় এবং সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়।
৪. ডিজিটাল ডিস্ট্র্যাকশন কমানএকসঙ্গে বসে থেকেও যদি দুজনের মন ফোনে থাকে, তাহলে মুহূর্তের মূল্য হারায়। হেলথলাইন বলছে, ‘ফাবিং’ বা ফোনে ডুবে থাকা সম্পর্কের ক্ষতি করে। তাই অন্তত এক ঘণ্টা ‘নো-ফোন জোন’ রাখুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলার প্রভাব অনেক বেশি।
৫. কৃতজ্ঞতার চর্চাদিনের শেষে সঙ্গীকে তার ভালো গুণ সম্পর্কে জানান, তার কোন বিষয়টি আজ আপনাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে – সেটি জানান। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা দাম্পত্য জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সঙ্গে এটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে।
অফিসের ব্যস্ততার মাঝেও যদি আপনি সঙ্গীর জন্য সচেতনে ১০ মিনিট সময় রাখেন, তবে সেটিই সবচেয়ে বড় উপহার। ভালোবাসা বড় আয়োজনের নয়, নিয়মিত যত্নের ফল। তাই কাজের চাপকে অজুহাত না বানিয়ে, ছোট কিন্তু আন্তরিক মুহূর্ত তৈরি করুন - তাতেই দিনটি হয়ে উঠবে সত্যিকারের বিশেষ।
সূত্র: দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউট, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, হেলথলাইন, জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস
এএমপি/জেআইএম