জাতীয়

এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নতুন মানদণ্ড

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক (মানদণ্ড) স্থাপন করেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়নে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভবিষ্যৎ সরকারের বিষয়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে সংলাপ, সুশীল সমাজ, বিরোধী দল ও মিডিয়ার নজরদারি বজায় রাখা জরুরি। সরকারকে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে—যাতে যুবক, নারী এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনের প্রতিযোগিতার বিস্তৃতি কিছুটা সীমিত হয়েছে। তবে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার দিক থেকে ভোটাধিকার, প্রার্থী নিবন্ধন ও ফল গণনা প্রায় সব প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত ছিল। প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ভোটারদের কাছে বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। তবে নির্বাচনের নিজস্ব কার্যক্রম প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ছিল। রেফারেনডামের (গণভোট) ফলাফল আমাদের পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও, এটি নতুন সংসদ ও সরকারের জন্য সংস্কার বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল, যা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের উৎসাহ ও অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ভোট গণনার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে হলেও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা মোটামুটি রক্ষা পেয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরাসরি ভোট জালিয়াতি বা ফ্রড দেখা যায়নি। তবে কিছু ছোটখাট অনিয়ম নজরে এসেছে, যেগুলোর জন্য আপিল প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা উচিত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার উপস্থিতিতে কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। আদিবাসী ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগও পর্যবেক্ষকরা শুনেছেন।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ইজাবস মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মিডিয়া বৈচিত্র্যময় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা খবর ও প্রোপাগান্ডা ব্যবহারের বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন। 

জেপিআই/এমএমকে