অর্থনীতি

নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসে শুরুতেই চাঙা শেয়ারবাজার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হতেই চাঙা হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজার। সূচনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়।

লেনদেনের প্রথম পাঁচ মিনিটেই অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) পৌঁছে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যেন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে বাজারে তৈরি হয়েছে ‘প্রত্যাশার বারুদ’।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন সরকারের দ্রুত নীতিগত দিকনির্দেশনার আশায় বিনিয়োগকারীরা কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। নির্বাচনের আগে টানা কয়েক মাস অনিশ্চয়তা, তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতার কারণে বাজারে স্থবিরতা ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর তারা নতুন করে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

লেনদেনের শুরুতেই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতার চাপ বেশি দেখা যায়। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তারা জানান, বাজারে বিক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় দর দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘রিলিফ র‍্যালি’ বলছেন- অর্থাৎ অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার স্বস্তি থেকেই এই উল্লম্ফন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশাই নয়, অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতি, ডলারবাজার স্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন সরকারের পদক্ষেপের দিকেও নজর থাকবে। যদি ঘোষিত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা স্থায়ী হতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, টেকসই ঊর্ধ্বগতির জন্য করপোরেট আয় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।

আরও পড়ুনশেয়ারবাজারে গতি ফেরার আশাভোটের আগে শেয়ারবাজারে বড় উত্থানক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখতে পেয়ে তারা আশাবাদী। তবে কেউ কেউ দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরদিনই শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলো, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে পুঁজিবাজার কতটা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই ‘প্রত্যাশার বারুদ’ সাময়িক উল্লাসেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি স্থিতিশীল ও সংস্কারভিত্তিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি গড়ে তোলে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ১৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের পাঁচ মিনিটের মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় চলে আসে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৫৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

তবে এরপর কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ২০ মিনিটে ডিএসইতে ৩৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫টির। আর ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়েছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৪৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৯টির, কমেছে ৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির।

এমএএস/বিএ