ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। একদিনেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়েছে। সেই সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আর পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মিলেছে।
এমন বাজারেও কিছু প্রতিষ্ঠান হেঁটেছে বিপরীত পথে। দাম বাড়ার বদলে এসব কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। দাম কমার এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এটির পাশাপাশি আরও ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এদিন কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ৩৬৪টির।
এদিন লেনদেন শুরুর আগে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিলো ৫২ টাকা ১০ পয়সা। তবে লেনদেন শুরু হয় ৫০ টাকা দরে। আর লেনদেন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪৯ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ২ টাকা ৬০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮ টাকা। এ হিসেবে একদিনে কোম্পানিটির শেয়ার দাম সম্মেলিতভাবে কমেছে ৪১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এখন দাম কমলেও এর আগে কোম্পানিটির শেয়ার দামে বড় উল্লম্ফন হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিলো ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। সেখান থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫৪ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠে।
এক সময় বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দেওয়া ইসলামী ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরে ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তার আগে ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে ছিলো।
সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ার প্রতি ৬২ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয় ১ টাকা ৬৬ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির মুনাফাতেও ধস নেমেছে।
ব্যাংকটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার আছে।
এছাড়া দাম কামার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে- জিলবাংলা সুগার মিলের ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইসলামীক ফাইন্যান্সের ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইবনে সিনার ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ, শ্যামপুর সুগার মিলের ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং আফতাব অটো মোবাইলের ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ দাম কমেছে।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দাম কমেছে এক শতাংশের কম। এর মধ্যে- জুট স্পিনার্সের দশমিক ৯৫ শতাংশ, নাভানা সিএনজি’র দশমিক ৯২ শতাংশ, কহিনুর কেমিক্যালসের দশমিক ৭৬ শতাংশ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমারের দশমিক ৫৬ শতাংশ, ইনফরমেশন সার্ভিসেস’র দশমিক ৫৩ শতাংশ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের দশমিক ২৯ শতাংশ, সমতা লেদারের দশমিক ২২ শতাংশ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের দশমিক ১৪ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ১১ শতাংশ দাম কমেছে।
এমএএস/