প্রবাস

মালয়েশিয়ায় দুর্নীতি দমন প্রধানের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসি‌সি)-এর প্রধান কমিশনার আজম বাকির শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী কুয়ালালামপুর। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবিতে কালো পোশাক পরিহিত শত শত বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রস্থলে এক বিশাল সমাবেশ করেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারপন্থি প্রভাবশালী সংগঠন ‘বারসিহ’-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, আজম বাকির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ‘নরম’।

তারা দাবি করেন, এমএসিসি প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভকারীদের পরনে থাকা কালো পোশাককে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ‘গভীর পচন’ এবং বর্তমান জোট সরকারের সংস্কারবাদী ভাবমূর্তির ওপর হুমকির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী রাফিজি রামলী। বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই আপনাদের ক্ষমতায় এনেছে। ক্ষমতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২২ বছরের এই প্রতিবাদই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে; এটা ভুলে গেলে চলবে না।’

দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসি‌সি) এর প্রধান কমিশনার আজম বাকি

তিনি আরও বলেন, এমএসিসির প্রধান দায়িত্ব যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা, সেখানে এর প্রধানের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ সংস্থার ভাবমূর্তিতে গুরুতর দাগ ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আজম বাকির বিরুদ্ধে জনসমালোচনা তীব্র হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণ করেছেন। মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১ লাখ রিঙ্গিত অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখতে পারেন না।

আজম বাকি সব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলা দায়ের করলেও তিনি তদন্তকালীন ছুটিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাফিজি রামলী, নিক নাজমি এবং পার্টি কাদিলান রাকায়াত (পিকেআর)–এর আরও ছয়জন সংসদ সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বিশেষ টাস্কফোর্সের তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়।

তারা অভিযোগ করেছেন, একদল ব্যবসায়ী এমএসিসিকে ব্যবহার করে কোম্পানি মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করছে—এমন বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এমএসিসি এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিলেও বিক্ষোভকারীরা দ্রুত আজম বাকির অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

এমআরএম