ঢাকার কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকায় গৃহবধূ ফারজানা আক্তার (২৪) হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার প্রধান সন্দেহভাজন ও নিহতের ভাসুর মো. সবুজ খলিফাকে (৩৬) দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তাপস কুমার কুণ্ডু পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ জিআর শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামী রিফাতের সঙ্গে ঢাকায় এসে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন ফারজানা।
অভিযোগে বলা হয়, বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে পলাতক সবুজ খলিফাকে আটক করা হয়।
নিহতের মা ও মামলার বাদী মাকসুদা আক্তার দাবি করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মেয়ে ফোনে জানিয়েছিলেন বাড়িতে স্বামী ও শ্বশুর কেউ নেই, কেবল ভাসুর সবুজ আছেন। রাতের দিকে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।
মাকসুদা আক্তারের অভিযোগ, সবুজ খলিফাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ঘটনার পর ছদ্মবেশে পালানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
১৯ জানুয়ারি নিহতের মা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
এমডিএএ/এএমএ