অর্থনীতি

বড় উত্থানের পর বিক্রির চাপে পতনে শেয়ারবাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও, দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপে এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ভোটের আগে দুদিন এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কর্যদিবসের উত্থানে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেশ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এই সুযোগে মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ায়। এ কারণে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে।

এর আগে ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে বাজার মূলধন বাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। সেই সঙ্গে পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মেলে।

এমন উত্থানের পর সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টা পার হতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে বড় হয় দাম কমার তালিকা।

আরও পড়ুননির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসে শুরুতেই চাঙা শেয়ারবাজাররমজানে শেয়ারবাজারে লেনদেন ১০টা থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত

বিক্রির চাপ থাকলেও এদিন বাজারে ক্রেতারাও বেশ সক্রিয় ছিলেন। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এর ফলে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেনের দেখা মিলেছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৮টির। আর ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১১টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৮টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৩টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে হয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর ডিএসইতে টানা দুই কার্যদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকার। ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইড, আইএফআইসি ব্যাংক, রবি, সোনালী পেপার এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯০টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

বড় উত্থানের পর দরপতনের বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এটা স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন। টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যে কারণে বিক্রির চাপ বেড়ে, দরপতন হয়েছে। তবে বাজারের ভালো লক্ষণ হলো ক্রেতারাও সক্রিয় ছিলেন। যে কারণে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা খুব ভালো দিক। নির্বচনের পর অনেকেই বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন। সুতরাং বাজার ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি। ভালো বাজার বলতে টানা উঠতেই থাকবে, তা কিন্তু নয়। উত্থান-পতনের মধ্যদিয়েই বাজার এগিয়ে যাবে। টানা উত্থান বা টানা পতন স্বাভাবিক বাজারের লক্ষণ না।

এমএএস/ইএ