দেশজুড়ে

৫৪ বছরেও মন্ত্রী দেয়নি বিএনপি, এবার চান নেতাকর্মীরা

নেত্রকোনার ১০টি উপজেলা নিয়ে পাঁচটি নির্বাচনি আসন গঠিত। এরমধ্যে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে কখনোই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেয়নি বিএনপি সরকার। অবশ্য এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে দুবার প্রতিমন্ত্রী দিয়েছে। এ কারণে বিএনপির সরকারের সময় সদরের এই আসনে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা সদরের এই আসনটিতে উন্নয়নের স্বার্থে মন্ত্রী দেওয়ার দাবি তুলেছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান এমপি নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে। পরে আসনটিতে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে আবু আব্বাছ এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আসনটি। ২০০১ আব্দুল মোমেন, ১৯৯৬ ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ফুটবলার আরিফ খান জয় আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হন আশরাফ আলী খান খসরু। ২০২৪ সালেও নির্বাচিত হন তিনি। তবে, এই আসনে কখনোই বিএনপি থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি।

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুল কাদের সুজা বলেন, ‘জেলা সদর থেকে মন্ত্রিপরিষদে সদস্য না থাকলে জেলার সুষম উন্নয়ন হয় না। অতীতেও আমরা কোনো মন্ত্রী পাইনি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জেলা শহরকে মনে হয় কোনো উপজেলা শহরের চেয়েও অনুন্নত। তাই এবার আমরা যে কোনো দপ্তরে মন্ত্রী চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক ঠকানো হয়েছে। এবার আমরা যোগ্য এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছি। তাই এবার আমরা মন্ত্রী চাই।’

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, ‘এই আসনে আওয়ামী লীগ দুবার মন্ত্রী দিয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো মন্ত্রী পাইনি। অধ্যাপক আনোয়ারুল হক যোগ্য নেতা। তাকে মন্ত্রিপরিষদে জায়গা দেওয়া হলে এলাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’

এইচ এম কামাল/এসআর/জেআইএম