রোজা শুরু হলেই ইফতার ও সেহরির সময় রান্নাঘরে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। হঠাৎ বাজারে ভিড়, পণ্যের দাম ওঠানামা কিংবা সরবরাহে ঘাটতি - এসব এড়াতে আগেভাগে পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। তাই প্রয়োজন বুঝে তালিকা করে কেনাকাটা করলে অপচয় কমে, বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এক মাসের জন্য কোন কোন উপকরণ রমজানের শুরুতেই কিনে স্টক করতে পারেন -
চাল, আটা বা ময়দা, সেমাই ও লাচ্ছা, ওটস বা চিড়া - এসব পণ্য শুষ্ক ও বাতাস চলাচল করে এমন পাত্রে রাখুন। আর্দ্রতা ঢুকলে পোকা ধরতে পারে।
২. ডাল ও প্রোটিনের উৎসমসুর, মুগ, ছোলা ডাল, বুট, সয়াবিন, কাবলি ছোলা, ডিম ইত্যাদি। ডাল ও বুট দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে একমাসের ডিম একসঙ্গে কিনলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
৩. মসলা ও রান্নার উপকরণলবণ, চিনি, গুড়, হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে, গরম মসলা, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, ঘি। এই মসলাগুলো কিনে বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় থাকবে।
খেজুর, চিঁড়া, মুড়ি, বেসন, শরবতের সিরাপ - এসবও কিনে রাখতে পারেন। তবে খেজুর শুষ্ক স্থানে রাখুন এবং বেসন আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে ভালো থাকে।
৫. হিমায়িত ও সংরক্ষিত খাবারমুরগি ও গরুর মাংস পরিমাণমতো ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন। সবজি সাপ্তাহিক বাজার করে কেটে ধুরে পানি ঝরিয়ে আলাদা আলাদা বক্স বা জিপলক ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। আদা-রসুন বাটা আলাদা বাটিতে ডিপ ফ্রিজে রাখুন।
৬. স্বাস্থ্যকর বিকল্পবাদাম, কিশমিশ, মধু, লেবু, ইসবগুল - এগুলো রোজায় বেশ কার্যকর খাবার। রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে পুষ্টিকর ও হালকা খাবার মজুত রাখা জরুরি।
কেন পরিকল্পিত স্টক জরুরি?বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্য সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেয়। একইভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অযথা মজুত বা অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার পরামর্শ দেয়, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। তাই রোজার বাজার একবারে করলেও তা যেন পরিকল্পিত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করুন, সংরক্ষণ পদ্ধতি ঠিক রাখুন এবং অতিরিক্ত অপচয় এড়ান। সচেতন প্রস্তুতিই স্বস্তির রোজা নিশ্চিত করতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এএমপি/জেআইএম