রমজান এলেই অনেক ডায়াবেটিস রোগী ভাবেন - এবার সবগুলো রোজা রাখতে পারবো তো! কেউ আবার নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন - তার রোজা রাখা নিরাপদ কি না।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। এতে রোজা রাখা নিরাপদ হয় এবং জটিলতার ঝুঁকি কমে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে যাওয়ার (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক চিকিৎসককে কী কী জিজ্ঞেস করবেন -
১. আমি কি নিরাপদে রোজা রাখতে পারব?
প্রথমেই চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন, আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রোজা রাখা নিরাপদ কি না। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সব ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রোজা সমানভাবে নিরাপদ নয় - কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
২. ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় কি পরিবর্তন করতে হবে?
রোজার সময় খাবারের সময় পরিবর্তিত হয়, তাই ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার সময়ও পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক সেহরি ও ইফতারের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন সময়সূচি ঠিক করে দিতে পারেন।
৩. রক্তে শর্করা কতবার পরীক্ষা করব?
রোজার সময় নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে শর্করা খুব বেশি কমে বা বেড়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই নিয়মিত মনিটরিংকে নিরাপদ রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
৪. কোন লক্ষণ দেখা দিলে রোজা ভাঙতে হবে?
যদি মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘাম, কাঁপুনি বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থায় রোজা ভেঙে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন - এ বিষয়ে আগে থেকেই চিকিৎসকের নির্দেশনা জেনে রাখা উচিত।
৫. সেহরি ও ইফতারে কী ধরনের খাবার খাবেন?
চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন কোন খাবার আপনার জন্য উপযুক্ত। সাধারণত আঁশযুক্ত খাবার, প্রোটিন ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে - এ তথ্য আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের গাইডলাইনেও উল্লেখ আছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস থাকলে রোজা রাখা অসম্ভব নয়, তবে সঠিক প্রস্তুতি জরুরি। রোজার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করলে আপনি নিরাপদে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রোজা পালন করতে পারবেন।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন
এএমপি/এএসএম