দেশজুড়ে

মাছ চোর অপবাদে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩৫) নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ডামুড্যার কনেশ্বরের ইকুরি এলাকায় শাহীন মাদবরের মাছের ঘেরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সেলিম পাইক। এ সময় ঘেরের কর্মচারীরা তাকে ‘মাছ চোর’ সন্দেহে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। প্রথমে তাকে পানিতে চুবিয়ে পাড়ে আনা হয় এবং সেখানে এক দফা মারধর করা হয়।

পরবর্তীতে ঘেরের মালিক শাহীন মাদবর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিমের হাত বেঁধে মাটিতে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার পায়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ‘বাবারে বাবারে’ বলে চিৎকার করলেও হামলাকারীদের মন গলেনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে সেলিমের ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে অভিযুক্তরা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে নিচে ফেলা রাখা হয়েছে। মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পিটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। এসময় সেলিম চিৎকার করে কাতর আর্জি জানাচ্ছেন।

আহত সেলিম পাইক জানান, তিনি মাছ চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না। ঘেরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে এই বর্বরতা চালানো হয়েছে।

সেলিমের ভাই জয়নাল আবেদীন বলেন, সেলিম কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অত্যন্ত গরীব। সে যদি চুরি করত তবে তার কাছে মাছ পাওয়া যেত। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘের মালিক শাহীন মাদবর মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ঘেরের মাছ চুরি হওয়ায় জিদের বশে তাকে মারধর করে ফেলেছি। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান এই ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন জানান, নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধান মজুমদার অনি/কেএইচকে/জেআইএম