দেশজুড়ে

দুদকের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তার ১৯ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা দেড়কোটি

নোয়াখালীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কাজী মাহফুজুর রহমান নামে ইউনিইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির সাবেক এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে ১৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রায় দেড়কোটি টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। পরে আদালতে উপস্থিত আসামিকে সাজামূলে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত কাজী মাহফজুর রহমান চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর গ্রামের কাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির নোয়াখালীর মাইজদী কোর্ট শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন।

নোয়াখালী দুদকের আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. ইদ্রিছ মিয়া রায়ের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৪০৯ ধারায় ৭ বছরের, ৪৬৭ ধারায় ৭ বছরের ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া এক কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

মো. ইদ্রিছ মিয়া আরও বলেন, মামলার অপর আসামি কাজী সাইফুর রহমান, আজাদ রাকিব, নাজমা হক, মফিজুল ইসলাম খন্দকার ও মো. ছালাউদ্দিনকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি কাজী মাহফুজুর রহমান বিগত ২০১২ সালের ১২ মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ফেনী শাখায় কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে গোপনে আসামি কাজী সাইফুর রহমানের নামে ওই শাখায় হিসাব খুলে জিএল হিসাব হতে নিজের পাসওয়ার্ড ও আইডি ব্যবহার করে এক কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী তদন্তপূর্বক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি পরিচালনা করেন নোয়াখালী দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ