দেশজুড়ে

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, উত্তাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে সম্প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিজ্ঞানী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্লাম্বার পদে নিয়োগ পেয়ে একজন যোগদান করতে এসে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় ধরা পড়েন কর্তৃপক্ষের হাতে। পরে অভিযুক্তকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযুক্তের নাম সুজা মিয়া। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার কুকড়াপাড় এলাকার ফজলুল হক মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে সম্প্রতি ৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৫৫ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ যোগদান করেছেন আবার অনেকে যোগদান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। সোমবার প্লাম্বার পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করতে আসেন সুজা মিয়া নামে একজন। যোগদানের সময় সুজা মিয়াকে দেখে যারা তার ব্যাবহারিক পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও লিখিত পরীক্ষা নিয়েছিলেন তাদের সন্দেহ হয়।

পরে তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সুজা মিয়া জানান, তিনি লিখিত ও প্রেক্টিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেননি। তার স্থলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন মিলন মিয়া নামে এক ব্যক্তি। আর প্রেক্টিক্যাল পরীক্ষা দেন মাহবুব নামে অপর এক ব্যক্তি। আর এ নিয়োগের জন্য তিনি সাত লাখ প্রদান করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্রি জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের ব্যাপারে পুনঃ যাচাইয়ের দাবি করেন ব্রি’র বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। এ অনিয়মের জন্য ব্রির কর্মকর্তাগণ ডিজিসহ একজন পরিচালককে অভিযুক্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো বিভাগীয় প্রধানকে রাখা হয়নি। একটি সিন্ডিকেট করে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে লাখ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। তাই নতুন নিয়োগ পাওয়াদের বিষয়ে পুনঃযাচাই বাছাই ও তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিজ্ঞানী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এতে বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো. ইব্রাহিম, জেনারেল সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ব্রি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রশীদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. রমজান আলী, শ্রমিক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সমিতির মনির হোসেন বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে ব্রি’কে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে গেছেন। তারা ব্রি’র ডিজিকে ব্রি’তে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তাকে ব্রি’তে ঢুকতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

অপরদিকে বিজ্ঞানী সমিতির অপর অংশের এক নেতা বলেন, এ নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অবাঞ্ছিত না করে তাদের সঙ্গে বসে এ ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা এবং জড়িতদের বিচার করা উচিত। তা না হলে প্রতিবারই এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে আর ডিজি পরিবর্তন হতে থাকবে। একবার বিচার হলে পরবর্তীতে আর কেউ এমন অপকর্ম করতে সাহস পাবে না।

ব্রি’তে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে চাকরিতে যোগদান করতে আসা সুজা মিয়ার বিষয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাইম উদ্দিন খান বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ব্রি কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। অভিযুক্ত সুজা মিয়া থানা হেফাজতে আছেন।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম