দেশজুড়ে

সন্ধ্যায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, রাতে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন

নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্যার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে তার ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, হুমায়ুন কলস প্রতীকের সমর্থক। ধানের শীষের সমর্থকেরা তাদের (কলস সমর্থকদের) হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারাই এই আগুন দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে আগুন দেখতে পেয়ে তারা ছুটে যান। পরে সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নবু মোল্যা বলেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে একটা শব্দ হয়। আমরা বাড়ি থেকে দৌড়ে আসতে আসতে দেখি ঘরের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান ছিল, আসবাবপত্র ছিল, যেসব মালামাল ছিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর এক পাশে হুমায়ুন ঘুমিয়ে থাকত। এদের উদ্দেশ্য ছিল হুমায়ুনকে পুড়িয়ে মারা।

হুমায়ুন মোল্যার ভাই মো. রমজান মোল্যা বলেন, আমরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) মনিরুল ইসলামের দল করে আসছি। মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আমরা তার কলস মার্কায় কাজ করেছি। কলসের কাজ করায় টিংকু ও তার লোকজন আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। টিংকু ধানের শীষের কাজ করেছে। ধানের শীষের লোক আমাদের ঘরবাড়ি পোড়ায় দিয়ে গেছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, পরিকল্পিতভাবে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করলে আগুন দেওয়ার মূলহোতা বেরিয়ে আসবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করি।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কলস প্রতীকের সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থক আশরাফুল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ধানের শীষের সমর্থকরা কলস প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে তাদের ৫ জন আহত হন। আহতদের সবাই নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই রাতেই স্বতন্ত্র কলস প্রতীকের সমর্থক হবখালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্যার বড়ির একটি ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হাফিজুল নিলু/এফএ/এমএস