জাতীয়

সাকি-নুরও নেননি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর।  

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে সংসদ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুরসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত শপথবাক্য পাঠ করেননি।  

এরপর দুপুর পৌনে ২টার দিকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জোনায়েদ সাকি। তিনিও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন।  

বিএনপি জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই জোটের আরেক শরিক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন।  

এর আগে এনসিপির মনোনয়নে নির্বাচিত সদস্যরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথকভাবে শপথ নেন। তাদের সঙ্গে একই ১১ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতসহ অন্য শরিকরাও দুটি শপথই পাঠ করেছেন।  

আরও পড়ুননতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাচ্ছেন যারা তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী 

নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক পটভূমিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন নুরুল হক নুর। ২০১৮ সালে তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলন, শিক্ষার্থী অধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী নানান ইস্যুতে সরব ভূমিকা রাখেন। 

প্রতিষ্ঠা করেন গণঅধিকার পরিষদ, যা শুরুতে ছাত্র-যুবকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়া, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল এবং সংবিধানের একাধিক ধারার সংশোধনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তিনি আলোচিত-সমালোচিত দুইই হয়েছেন। 

জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক কার্যক্রম জোনায়েদ সাকি দীর্ঘদিন ধরে বামধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, পরবর্তী সময়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব নেন। শ্রমিক অধিকার, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিরোধিতায় তিনি ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন।  

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো ঘিরে তিনি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে থেকেও তিনি সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং নির্বাহী বিভাগের ওপর সংসদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।  

এমএএস/কেএসআর