অর্থনীতি

সংসদ সদস্যদের শপথের দিন পতনে শেয়ারবাজার 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার দিন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দরপতন হয়েছে। ভোটের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও দরপতন হয়। অবশ্য ভোটের আগের দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপে এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ভোটের আগে দু’দিন এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কর্যদিবসের উত্থানে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেশ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এই সুযোগে মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ায়। এ কারণে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভোটের আগের দুই কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ১৭০ পয়েন্ট। আর ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ২০০ পয়েন্ট। তবে ভোটের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসে এসে সূচকটি ১১ পয়েন্ট কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে বেশ অস্থিরতা দেখা যায়। কখনো ঊর্ধ্বমুখী তো পরবর্তীতেই দরপতন, এমন পরিস্থিতিতে চলে লেনদেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিক্রির চাপ বেশি থাকায় দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বিক্রির চাপ থাকলেও এদিন বাজারে ক্রেতারাও বেশ সক্রিয় ছিলেন। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এর ফলে টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেনের দেখা মিলেছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৮টির। আর ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৭টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪২টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৪টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে হয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসিআই’র শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার। ৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, মুন্নু ফেব্রিক্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস এবং কে অ্যান্ড কিউ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১০টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এমএএস/ইএ