ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। শপথ ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনের আশেপাশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কেউ ফুল হাতে এসেছেন। কেউবা এসেছেন মিছিল নিয়ে।
সেখানেই কথা হলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানিয়েছেন, নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক। মন্ত্রিপরিষদের কাছে সুখ, শান্তি ও স্বস্তি চায় সাধারণ মানুষ। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান তারা। মানুষের মৌলিক অধিকার যাতে কেউ হরণ করতে না পারেন চান সেই নিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে সংসদ ভবনের পূর্ব গেইটে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে এসেছেন মানিক হাসান। তার এলাকার সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে এসেছেন তিনি। কথা হলে মানিক হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাছে আমাদের একটিই চাওয়া নতুন বাংলাদেশ যেন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যাতে গণহারে মামলা-হামলা না হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যাতে তার মৌলিক অধিকার ফিরে পায় আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
রাজধানীর মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ। পূর্ব পাশে অপেক্ষার সময় জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিপরিষদ যেন আমাদের শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেয়। শিক্ষাখাতকে যেন ঢেলে সাজান। নতুন মন্ত্রিপরিষদ বিশেষত শিক্ষামন্ত্রী যাতে শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোযোগ দেন সেটি আমরা চাই। এছাড়া সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন বিশেষ মনোযোগ দেন এটি আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।’
গাইবান্ধা থেকে এসেছেন আব্দুর রব। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের কাছে প্রত্যাশা দেশ যাতে ভালোভাবে চলে। দেশটা যেন সুখে শান্তিতে থাকে, সব মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এটিই আমার প্রত্যাশা। অর্থনীতি যাতে ভালো চলে এবং পে-স্কেল যেন বাস্তবায়ন করে এটিও আমাদের প্রত্যাশা।’
নাটোরের সিংড়ার এমপিকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল হাতে এসেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের কাছে প্রত্যাশা বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আমরা পুরো দেশের যত মানুষ আছেন, সবাই খুব আশাবাদী। সুন্দর একটা বাংলাদেশ যাতে আমাদের উপহার দেয়। আমরা সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
কদমতলী থানা থেকে এসেছেন শিক্ষক শাহীন আক্তার ও আরও কয়েকজন। তারা সেলফি তুলছিলেন। কথা হলে শাহীন আক্তার বলেন, ‘আমরা অনেক সংগ্রাম করে, অনেক রক্ত ঝরিয়ে, নতুনভাবে স্বাধীনতা লাভ করেছি। সুতরাং এই রক্তস্নাত নতুন বাংলাদেশে আমরা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছি। সুতরাং এই নতুন মন্ত্রিসভার কাছে আমাদের অনেক আকাঙ্ক্ষা। এই ভগ্নপ্রায় দেশ, ঋণে জর্জরিত দেশ যেন সত্যিকারেরই জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ হয়। যেন আমরা দুর্নীতিমুক্ত, শোষণমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়তে পারি। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
ইএইচটি/এমএমএআর