সোশ্যাল মিডিয়া

দিল্লি ভিএফএস সেন্টার থেকে মাহদীর ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট, হুমকি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেখানে তার অজ্ঞাতে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এবং পলাতক আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে।

এসব পোস্টে মাহদীর নাম পরিচয় উল্লেখ করে তাকে ‘জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি’ বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার মোবাইলেও হুমকি আসছে বলে তিনি ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন।

মাহদী হাসান দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, তিনি ফিনল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা সংক্রান্ত কাজে দিল্লির ভিএফএস সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে বের হয়ে হোটেলে আসার পর তার মোবাইলে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ ও কল আসতে থাকে। এসব কল ও মেসেজ থেকে তিনি বুঝতে পারেন কেউ তার অজান্তে তার বর্তমান অবস্থান, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে।

দ্য ডিসেন্ট ফেসবুক ও এক্স-এ সার্চ করে মাহদীকে নিয়ে শতাধিক পোস্ট পেয়েছে। বেশিরভাগ পোস্টেই একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, মাহদী একটি চেয়ারে বসে আছেন। ভিডিওটি মাহদীর পেছনে থাকা কেউ ধারণ করেছেন।

মাহদী জানান, দৃশ্যটি মঙ্গলবার দুপুরে ধারণ করা যখন তিনি দিল্লিতে ভিএফএস সেন্টারে গিয়েছিলেন ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে।

তবে তিনি জানেন না কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করেছে।

মাহদী বলেছেন, তিনি হোটেলে ফেরার পর এসব দেখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

‘আমি খুব ভয়ে আছি। কে বা কারা আমাকে অনুসরণ করছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না। হোটেলে ফেরার পর আমি আর বের হইনি। কয়েকবার দরজায় কেউ নক দিয়েছে। আমি খুলিনি।’

তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনকে বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দ্য ডিসেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন রেখে দিয়েছেন।

এদিকে দুপুরের পর থেকে ফেসবুক ও এক্সের বহু অ্যাকাউন্টে উক্ত ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে।

দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে ফেসবুকে Leo Chyper নামের অ্যাকাউন্ট থেকে মাহদী হাসানের ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “হবিগঞ্জ জেলার বৈষম্যবিরোধীর জঙ্গি মাহদী হাসান এর কথা মনে আছে? এই জঙ্গির নিজের স্টেটমেন্ট ছিল পুলিশ পুড়াইয়া মারছে। পুলিশ এরেস্ট করেও আটকে রাখতে পারেনাই। জামিন হয়ে যায়। ২ দিন যাবত ফেইসবুকে একটা গুজব ছিল এই জঙ্গি এরেস্ট। তারপর ভিডিও বিবৃতি দেয় সে এরেস্ট না। ঐ ভিডিও টা যখন আপলোড করে তখন মূলত এই বাটপার টা ইন্ডিয়ায় অবস্থান করে। এই টেরোরিস্ট ট্রাই করতেছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপ ঢুকতে।

আজকে ২ ঘন্টা আগে দিল্লীর গান্ধী মার্গ, কনট প্লেসের ভিএফএস গ্লোবাল আবেদন কেন্দ্রে আসে ইউরোপ এর ভিসার জন্য ফিংগার দিতে। ফাইল জমা দিতে!”

ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিন্ন একটি ভিডিওর ভয়েস যুক্ত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগপন্থি আরও বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে তাকে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া বিজেপি সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসি আবুল কালামের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনায় আসেন মাহদী হাসান। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি আবুল কালামকে তিনি বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন।

এ বক্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন মাহদী হাসান। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ওইদিন সন্ধ্যা থেকে তার মুক্তির দাবিতে দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। ঢাকাতেও কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাকে মুক্তি দিতে আলটিমেটামও দিয়েছিল সংগঠনটি থেকে।

২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, শুধু জামিন নয়, মাহদীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে জুলাই অংশগ্রহণকারী সবাইকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডিসেন্ট

এমএমএআর/