ফ্রান্সে কট্টর-ডানপন্থি এক কর্মীকে ‘পিটিয়ে’ হত্যার ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতার করেছে ফরাসি পুলিশ। গত সপ্তাহে বামপন্থিদের হামলায় ফ্রান্সের লিও শহরে নিহত হন ২৩ বছর বয়সি কোয়েন্টিন দেরাঁকে। গ্রেফতার সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারী বলে জানা গেছে। লিওঁর প্রসিকিউটর থিয়েরি দ্রাঁ নয়জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন।
আল-জাজিরার তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) লিওঁতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানের এক অনুষ্ঠানের বাইরে কট্টর-বামপন্থি কর্মীরা কোয়েন্টিনকে মারধর করে হত্যা করে। অভিবাসনবিরোধী সংগঠন ‘নেমেসিস’ দাবি করেছে, তাদের সদস্যদের সুরক্ষা দিতেই দেরাঁকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে শোক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী মার্চে পৌর নির্বাচন ও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর-ডান ও কট্টর-বাম শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তিনজন সহযোগিতার অভিযোগে আটক হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত ওই নয়জনের মধ্যে কট্টর-বাম দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ (এলএফআই)-এর আইনপ্রণেতা রাফায়েল আরনোর এক সহকারীও আছেন। আরনো জানিয়েছেন, তার সহকারী সব সংসদীয় কাজ বন্ধ করেছেন। তদন্তের পর তার অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে হবে।
এলএফআই নেতা জঁ-লুক মেলাঁশোঁ বলেন, যারা দেরাঁকের ওপর হামলা করেছে তারা নিজেদের অসম্মান করেছে এবং সহিংসতায় সব আঘাত ন্যায্য হতে পারে না।
এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘লা জ্যুন গার্দ’ (দ্য ইয়াং গার্ড) নামের একটি অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট যুব গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। এই সংগঠনটি সংসদে নির্বাচিত হওয়ার আগে আরনো তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও জুন মাসে সংগঠনটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে যে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। আরনো হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে দেরাঁকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আগামী সপ্তাহে লিওঁতে তার সম্মানে একটি মিছিলের আয়োজন করা হবে।
কট্টর-ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মারিন ল্য পেন এ ঘটনাকে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তার দলের নেতা জর্দান বারদেলা দাবি করেছেন, এলএফআই নেতা মেলাঁশোঁর নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় রয়েছে এবং তিনি সন্দেহভাজন খুনিদের জাতীয় পরিষদে প্রবেশের পথ খুলে দিয়েছেন।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর-ডানপন্থিরা এগিয়ে রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করার পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর প্রার্থী হতে পারবেন না।
কেএম