খেলাধুলা

এক সেঞ্চুরিই বদলে দিচ্ছে সামরার জীবন!

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে নিজের পরিচিতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিলেন কানাডার ১৯ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার যুবরাজ সামরা। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে তিনি শুধু সেই স্বপ্নই পূরণ করেননি, বরং এমন একটি ইনিংস খেলেছেন যা তার জীবনের গতিপথই বদলে দিতে পারে।

মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের চিপকে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাইল জেমিসনের বলে চার মেরে যখন তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তখন তিনি হয়ে যান বিশ্বকাপ (ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি) ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান। এই কীর্তিতে তিনি বয়সের দিক থেকে ছাড়িয়ে গেলেন বিরাট কোহলি, শচিন টেন্ডুলকার ও ক্রিস গেইলের মতো কিংবদন্তিদেরও।

প্রচণ্ড গরমের দিনে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে আগের মতো উচ্ছ্বাসে লাফালাফি না করলেও সামরাকে বেশ আবেগাপ্লুত দেখা যায়। ব্যাট উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদযাপন করেন তিনি। প্রায় ১৬ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানান, অনেকেই তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সামরা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই ইনিংসটা আমার জীবন বদলে দিতে পারে। কানাডা থেকে উঠে এসে এই খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া এবং ভালোভাবে জীবিকা অর্জন করা- এটা সত্যিই স্বপ্নপূরণের মতো।’

তবে এই বিশেষ দিনে একটি আফসোস রয়ে গেছে তার- গ্যালারিতে ছিলেন না তার বাবা ও কোচ বালজিৎ সামরা, যিনি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

ভারতের কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের নামানুসারে নাম রাখা হয়েছিল তার। সেই নামের মর্যাদাই যেন রাখলেন সামরা। শক্তিশালী পুল শট, লফটেড ড্রাইভ এবং দুর্দান্ত টাইমিং- সব মিলিয়ে তার ব্যাটিংয়ে ফুটে উঠেছে আধুনিক পাওয়ার হিটিংয়ের ছাপ।

তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডকে কৌশল বদলাতে বাধ্য হতে হয়। পেসার ও স্পিনাররা গতি কমিয়ে, লাইন বদলে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও তার লম্বা রিচ ও শক্তিশালী বেজের সামনে তা খুব একটা কাজে আসেনি। মাত্র ২২ বলে ফিফটি থেকে ৫৮ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ১০টি বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কার মার ছিল তখন তার ব্যাটে। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ১১০ রানে আউট হন সামরা।

১৩তম ওভারে অফস্পিনার কোল ম্যাককনচিকে টানা ৬, ৬, ৪ মেরে নিজের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করেন সামরা। তার উপস্থিতি এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়।

চিপকের দর্শকদের জন্যও দিনটি ছিল বিশেষ। ২০১১ বিশ্বকাপে একই ভেন্যুতে ভারতের যুবরাজ সিংয়ের সেঞ্চুরির স্মৃতি ফিরিয়ে দেন কানাডার এই নতুন যুবরাজ।

স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে সামরার সতীর্থ শিভম শর্মা বলেন, ‘সে অসাধারণ প্রতিভা। আমরা জানতাম বড় একটা ইনিংস আসবেই। তার ব্যাট স্পিডই তাকে আলাদা করে তোলে।’

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সামরা। তার লক্ষ্য, বিশ্বের প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা প্রথম কানাডিয়ান ক্রিকেটার হওয়া। চিপকের এই রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি যেন সেই স্বপ্নকে দিয়েছে নতুন ডানা। ক্রিকেট বিশ্বও হয়তো পেয়ে গেল নতুন এক তারকার সন্ধান।

আইএইচএস/