নতুন সরকারের মন্ত্রীদের প্রথম অফিস উপলক্ষে সচিবালয়ে সকাল থেকেই চলছিল সাজ সাজ রব। বুধবার দুপুরের দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের টানানো হয় লম্বা ব্যানার। ব্যানারে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বুধবার ক্যাবিনেট মিটিং শেষে প্রথমবারের মতো নিজ মন্ত্রণালয়ে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি অপারগ জানান। গার্ড অব অনার শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বৈঠকে বসেন তিনি।
শুভেচ্ছা বৈঠকেই কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন। মন্ত্রণালয়ের বাইরে তার নাম ও ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানো নিয়ে এ সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার সন্ধ্যায় শুভেচ্ছা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ব্যানারটি কে টানিয়েছেন তা জানতে চান মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের জন্য ব্যানার-ট্যানার থাকতে পারে। কিন্তু কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। অফিসাররা অফিসারদের মতো থাকবেন, এ ধরনের কাজে জড়াবেন না।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈঠকে মন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভাঙা যাবে না। থানার ওসি যেন সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
গত ১৭ বছরে পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, এখন সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। কাজের মূল্যায়নে তিনি বিশ্বাসী বলেও জানান।
সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও মন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। জনগণকে অযথা ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।
টিটি/এমআরএম