অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) নারী এশিয়ান কাপ-২০২৬। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় রচনা করে প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশ নিচ্ছে সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। এই অসামান্য অর্জনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নারী দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শুভকামনা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের মেয়েরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আজ তারা এশিয়ার সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি কেবল নারী ফুটবলের উন্নয়নই নয়, বরং ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের নারীশক্তির অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতিফলন।’
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে লাল-সবুজের পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে নারী ফুটবল দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে সরকার। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আপনাদের লড়াকু মানসিকতা সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের আত্মপরিচয় তুলে ধরবে। আপনারা খেলবেন হৃদয়ের গভীর থেকে, সেরা নৈপুণ্য দিয়ে, আমাদের দেশের জন্য।’
এশিয়ান কাপের এই আসরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বুনছেন দেশের ফুটবল ভক্তরা। কোচ পিটার বাটলারের অধীনে বর্তমানে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত রয়েছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত চলা এই আসরে এশিয়ার সেরা ১২টি দেশ অংশ নেবে।
নারী এশিয়ান কাপ খেলতে আজ রাতে ঢাকার বিমানবন্দর ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমাসহ পুরো দল। ১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসর।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী ফুটবল দল এবং উজবেকিস্তান নারী ফুটবল দল। ৩ মার্চ সিডনিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
এসকেডি/এমএমআর