জাতীয়

পরিবারের সঙ্গে প্রথম ইফতার: আনন্দের আলাদা রং

বিকেল ৫টা। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় থেকে পিলখানার ৩ নম্বর গেট অভিমুখী সড়কে চোখে পড়ে এক ব্যস্ত দৃশ্য। নারী, পুরুষ, শিশু- সব বয়সী মানুষের ঢল। ৮-১০ বছরের ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে ৬০-৭০ বছরের প্রবীণরাও আছেন সেই ভিড়ে। কেউ দ্রুত হেঁটে, কেউ ব্যাটারি বা প্যাডেলচালিত রিকশায়, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার কেউ প্রাইভেটকারে ছুটছেন গন্তব্যের দিকে।

প্রায় সবার হাতেই পলিথিন কিংবা কাগজের প্যাকেট। কোথাও আলুর চপ, পেঁয়াজু, বুট, বেগুনি, জিলাপির ঠোঙা; কোথাও কমলা, আনারস, কলা, আঙুর, পেঁপে ও তরমুজসহ নানা ফল। কারও হাতে কোমল পানীয়, মাঠা বা আখের শরবতের বোতল। সবার মধ্যে একটাই তাড়া- আজ আগেভাগে ঘরে ফেরা। কারণ, আজ রমজানের প্রথম দিন।

গতকাল পর্যন্ত যাদের অনেকেই রাত করে বাসায় ফিরতেন, তাদের বড় একটি অংশ আজ ইফতারের আগেই পরিবারের পাশে বসতে চান। সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, এ সড়ক দিয়ে ফেরা মানুষের অধিকাংশই নিউমার্কেট, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডিসহ আশপাশের মার্কেটের দোকান মালিক ও কর্মচারী। আছেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন বলেন, বহু বছর ধরেই রমজানের প্রথম ইফতার পরিবারের সঙ্গে করি। প্রথম দিনের ইফতারের আনন্দটাই অন্যরকম।

তিনি জানান, এদিন কর্মচারীদেরও ইফতারের আগে দোকানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকে না। এই ব্যবসায়ী বলেন, আমি চাই, ওরাও যেন পরিবারের সঙ্গে ইফতারে শামিল হতে পারে।

কথার ফাঁকে দেখা যায়, তাঁর দু’হাত ভরা ইফতারের ব্যাগ।

এলিফ্যান্ট রোড এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাব্বির মাহমুদ জানালেন ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, রমজানের প্রথম দিন বিকেলে একসঙ্গে এত মানুষ বাসায় ফিরতে চাইলে যানবাহনের ভাড়া বেড়ে যায়।

এলিফ্যান্ট রোড থেকে হাজারীবাগে ফেরার পথে কয়েকবার অটোরিকশা চালকদের ভাড়া জিজ্ঞেস করেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাঁটতেই শুরু করেন তিনি।

হেসে সাব্বির বলেন, যে ভাড়া দিয়ে বাসায় যেতাম, তা দিয়ে দুই ছেলে-মেয়ের জন্য দুটি জুস কিনে নিয়ে যাবো। প্রথম দিন পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারবো- এই আনন্দেই হাঁটার কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

গাউছিয়া মার্কেটের এক দোকান কর্মচারী, দশ বছরের ছোট্ট শিশু। রাস্তার পাশের দোকান থেকে ২৫ টাকা দিয়ে একটি আনারস কিনছিল সে। হাতে ছোট্ট আনারস ঝুলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জানায়, দোকান মালিক ইফতারের জন্য ৫০ টাকা দিয়েছেন। সেই টাকা থেকেই আনারস কিনলাম। বাসায় সবার সঙ্গে ইফতার করে পরে আনারস খাবো।

রমজানের প্রথম দিন তাই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, হয়ে ওঠে পারিবারিক মিলনের এক উপলক্ষ। ব্যস্ত নগরীর ক্লান্ত মানুষগুলোর চোখেমুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি- প্রিয়জনের সঙ্গে বসে প্রথম ইফতার করার সহজ, অথচ গভীর আনন্দের হাসি।

এএমএ