চলমান আসরে অস্ট্রেলিয়কে হারিয়ে চমক দেখায় জিম্বাবুয়ে। এবার ব্রায়ান বেনেট ও সিকান্দার রাজার ঝলকের পরও হারের মুখ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে দলটি। দুর্দান্ত খেলতে থাকা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ফলে ‘বি’ গ্রুপে শীর্ষে অবস্থান করে সুপার এইটে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোতে ১৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় জিম্বাবুয়ে। সেটিকে কাজে লাগিয়ে শেষদিকে ২৪ বলে ৩৩ রানের সমীকরণকে নিজেদের করে নেয় দলটি বেনেট ও রাজার জুটিতে। দুজনের ৬৯ রানের জুটি জয় পর্যন্ত স্থায়ী না হলেও জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জিম্বাবুয়ে।
৪৫ রান করে রাজার বিদায়র পর জেতার জন্য দলের প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ১২। নতুন ব্যাটার মুসেকিওয়া ২ বলে ১ রান করে আউট হলে শঙ্কায় পড়ে যায় দলটির সমর্থকরা। তবে অপরপ্রান্তে অবিচল অর্ধশতক হাঁকানো ওপেনার বেনেট। তবে তার কিছুই করতে হয়নি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার পড়ে ৮ রান। প্রথম বলেই থিকশানাকে ছক্কা হাঁকান টনি মুনোঙ্গা। পরের বলে নেন সিঙ্গেল। জয়ের রানটি ৪ মেরে নেন বেনেট। তিনি অপরাজিত ছিলেন সর্বোচ্চ ৬৩ রানে।
উদ্বোধনী জুটিতে ৬৯ রান যোগ করেন তাদিনওয়াশে মারুমানি ও ব্রায়ান বেনেট। দিমুথ ভাল্লালাগের বলে তাকেই ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করা মারুমানির বিদায়ে ভাঙে জুটি। তিনে নামা রায়ান বার্ল ঝোড়ো শুরু করে ১১ বলে ২৩ রান করেন দুই ৪ ও এক ছক্কায়। কিন্তু সেখানেই থামতে হয় দাসুন শানাকার বলে। ৯৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
এরপর ৬৯ রানের জুটি গড়েন একপ্রান্ত আগলে রাখা বেনেট ও সিকান্দার রাজা। এই জুটিতেই অর্ধশতকের দেখা পান বেনেট। তবে লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হন রাজা। ১৫তম ওভারে দুশান হেমন্তকে পরপর দুটি ছয় মারার পর পরের দুই ওভারে থিকশানা ও মাদুশাঙ্কাকেও সীমানা ছাড়া করেন তিনি।
মনে হচ্ছিল অধিনায়কই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি হেমন্তর বলে দলীয় ১৬৭ রানে রাজা বিদায় নিলে। ৪ ছক্কা ও ২চারে করেন ২৬ বলে ৪৫ রান। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
লঙ্কানদের হয়ে দুটি উইকেটে পেয়েছেন হেমন্থ। একটি করে শানাকা ও ভেল্লালাগে।
এর আগে, বিশ্বকাপের নিয়মরক্ষার ম্যাচে পাথুম নিশাঙ্কা-পবন রথনায়েকের ব্যাটে চড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৭৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
কলম্বোতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন পাথুম নিশাঙ্কা আর কুশল পেরেরা। পেরেরা অবশ্য ১৪ বলে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরত যান। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৬১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
৩৪ বলে ফিফটি পূরণ করেন নিশাঙ্কা। ১২ ওভারে দলীয় ১০০ ছোঁয় শ্রীলঙ্কা। তবে কুশল মেন্ডিস সুবিধা করতে পারেননি। ২০ বল খেলে ১৪ রান করেন তিনি।
এরপর ৪১ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৬২ রান করে সাজঘরে ফেরেন নিশাঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ৫ বলে ৭ আর দাসুন শানাকা ৭ বলে ৬ করেই আউট হয়ে যান।
তবে মারকুটে ব্যাটিংয়ে পবন রথনায়েকে হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। হয়নি। ২৫ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৪৪ রানে ফিরতে হয় তাকে। শেষদিকে দুনিথ ওয়াল্লালাগে ৮ বলে অপরাজিত ১৫ রানের ইনিংস খেলে দিয়ে যান।
জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমার, ব্লেসিং মুজারাবানি আর ব্র্যাড ইভান্স নেন দুটি করে উইকেট।
আইএন