আমদানিতে শুল্ক কমলেও ময়মনসিংহের বাজারে গতবছরের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খেজুর। রোজাদার ক্রেতারা দামাদামি করলেও দাম কমাতে নারাজ বিক্রেতারা। ফলে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে খেজুর।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিন শহরের ঐতিহ্যবাহী মেছুয়া বাজারের যাদব লাহেড়ী লেনে খেজুরের দোকানগুলোতে ইচ্ছামতো দামে খেজুর বিক্রির এমন দৃশ্য দেখা যায়।
দোকানে টানানো মূল্যতালিকা অনুযায়ী, গতবছরের চেয়ে বেশিরভাগ জাতের খেজুর বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। জাত অনুযায়ী ৫০ টাকা থেকে ৫৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমরার ভিআইপি ৭২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা, আজওয়া ভিআইপি ১১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০০ টাকা, কালমি মরিয়ম ৬২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, জাবরি ৪৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২০ টাকা, ডাবাস ক্রাউন ১ নম্বর ৫২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, লুলু ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬০ টাকা ও মেডজুল ভিআইপি ১৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
মরিয়ম ভিআইপি ১২০০, সুক্কারি ভিআইপি ৭৫০, মাবরুম মরিয়ম ৮০০, মাসরুক ৪৫০, ব্ল্যাক মরিয়ম ৯০০, মেডজুল এক নম্বর ১৬০০, জাবিল (ছড়া) ৬৫০, ডাবাস ৪৪০, হাগাল ৫২০, বিজারারি ৬২০, বিজা ১৮০, জিহাদি ৩০০, কিমি মরিয়ম ভিআইপি ১১০০, সুফরি ৬৫০, আজওয়া ছোট ৯৫০, রেড মরিয়ম ৮৫০, জিহাদি ২৬০ এবং বিজা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, বিভিন্ন মুদির দোকানসহ আলাদা খেজুরের দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত খেজুর মজুত রয়েছে। রমজানে পর্যাপ্ত খেজুর মজুত থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন।
মেসার্স রেজাউল স্টোর নামের খেজুরের দোকানে খেজুর কিনতে দামাদামি করছিলেন মোশাররফ হোসেন। কিন্তু দাম কমাতে নারাজ বিক্রেতা।
এসময় কথা হয় ক্রেতা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন জাতের পর্যান্ত খেজুর রয়েছে। দোকানগুলোতে ডালাভর্তি করে খেজুর থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই ইচ্ছামতো দামে খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। দামাদামি করলেও দাম কমানো হচ্ছে না। এককেজি আজওয়া খেজুর কিনতে এসে আধাকেজি কিনেছি।’
আব্দুল করিম নামের আরেকজন ক্রেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘খেজুর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণের কারণে ধনী-গরিব সবার ইফতারিতেই থাকে। এ সুযোগে রমজান এলেই অসাধু বিক্রেতারা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন। বাজারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো মনিটরিং না থাকায় ইচ্ছামতো দামে খেজুর বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।’
মেসার্স রেজাউল স্টোরের মালিক বাবুল মিয়া বলেন, ‘খেজুর আমদানিতে সরকার শুল্ক কমিয়েছে। কিন্তু যারা আমদানি করেন তারা সে তুলনায় কমাচ্ছেন না। ফলে আমরা খুচরা বিক্রেতারা কিছুটা লাভ করে বিক্রি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাজারের অন্যান্য খেজুর বিক্রেতাদের অনুসরণ করি। তারা যে দামে বিক্রি করেন, আমিও একই দামে কিংবা একটু কম দামে বিক্রির চেষ্টা করি। অন্যান্য বিক্রেতারা দাম কমালে আমিও দাম কমিয়ে বিক্রি করবো।’
এতে আপনার ক্ষতি হবে কি-না জানতে চাইলে এই বিক্রেতা বলেন, ‘এখনতো সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেজুর বিক্রি করছি। অন্যান্য ব্যবসায়ীরা আরও কম লাভে বিক্রি করলে আমিও আরও কম লাভে বিক্রি করবো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অনেক খেজুর বিক্রেতা রমজান মাসের জন্য অপেক্ষায় থাকে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পবিত্র রমজান মাসকে টার্গেট করে ক্রেতাদের ঠকিয়ে নিজেরা বেশি লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেন। বাজারে অভিযান চালানো হবে। বাড়তি দামে বিক্রি করার যৌক্তিক প্রমাণ দেখাতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এসআর/জেআইএম