রাগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার তীব্র রাগ, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বা দমিয়ে রাখা হতাশা - এসব কি শরীরের ভেতরেও প্রভাব ফেলে?
গবেষণা বলছে, হ্যাঁ, বিশেষ করে যখন রাগ দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে রূপ নেয়।
ফাইট-অর-ফ্লাইট আর হরমোনের উঠানামারাগের মুহূর্তে শরীর ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়। তখন অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল বাড়ে। স্বল্প সময়ে এগুলো শক্তি জোগায়, মনোযোগ বাড়ায়। কিন্তু ঘন ঘন বা দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রায় থাকলে কর্টিসল সাদা রক্তকণিকা - বিশেষ করে ন্যাচারাল কিলার সেল ও লিম্ফোসাইটের কার্যকারিতা কমাতে পারে। ফলে ভাইরাস ও অস্বাভাবিক কোষের বিরুদ্ধে আপনার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রদাহের ভারসাম্যহীনতাগবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগ প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন বাড়াতে পারে। বারবার এমন হলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার প্রদাহ বা উনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়। এই প্রদাহ টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে অটোইমিউন সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা বা শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতার সঙ্গে অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক আছে, ফলে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ক্লান্ত ইমিউন সিস্টেমট্রমা বা দমিয়ে রাখা তীব্র রাগ থাকলে শরীর কখনো কখনো স্থায়ীভাবে সতর্ক অবস্থায় থাকে। এতে স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ইমিউন প্রতিক্রিয়া হয় অতিরিক্ত বা হাইপার-রিঅ্যাকটিভ, নাহয় দুর্বল হয়ে যায়। দুটিই ক্ষতিকর।
দীর্ঘমেয়াদে কী হতে পারে?দীর্ঘস্থায়ী রাগের সঙ্গে ক্ষত সারতে দেরি হওয়া, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং কিছু অটোইমিউন অবস্থার (যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস) উচ্চতর ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে মনে রাখতে হবে - এক-দুই মিনিটের রাগে স্থায়ী ক্ষতি হয় না; সমস্যা তখনই হয়, যখন রাগ অভ্যাসে পরিণত হয়।
তাহলে করণীয় কী?রাগ দমন নয়, নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক উপায়ে সামলানো জরুরি। কয়েকটি উপায় হতে পারে -
>> ট্রিগার চিহ্নিত করা
>> ৯০ সেকেন্ড গভীর শ্বাস নেওয়া
>> নিয়মিত ব্যায়াম
>> পর্যাপ্ত ঘুম
>> প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং
রাগকে শত্রু না ভেবে সংকেত হিসেবে নিন। সংকেত বুঝে ব্যবস্থা নিলে শরীর-মন দুটোই সুরক্ষিত থাকে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, সাইকোসোম্যাটিক মেডিসিন, ব্রেইন, বিহেভিয়ার অ্যান্ড ইমিউনিটি
এএমপি/এএসএম