অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইকের আজ ষষ্ঠ দিন - মিসিং ডে। সাধারণত ২০ ফেব্রুয়ারি পালন করা এই দিনটি তাদের জন্য, যারা সিঙ্গেল, কিংবা সম্প্রতি ব্রেকআপের পর নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভ্যালেন্টাইনস ডে’র পর ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে যে ধারাবাহিক দিনগুলোর কথা শোনা যায়, তারই একটি মিসিং ডে।
এই দিনগুলো মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছে তরুণদের মধ্যে আবেগ প্রকাশ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রতীকী উপলক্ষ হিসেবে।
মিসিং ডে আসলে কী?নামের কারণে মনে হতে পারে এটি কষ্ট বা তিক্ততার দিন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। মিসিং ডে মানে কারও অনুপস্থিতি স্বীকার করা। কারও জন্য মন খারাপ হওয়া লুকিয়ে না রাখা। অতীতের স্মৃতিগুলোকে অস্বীকার না করে, গ্রহণ করা।
এটি হতে পারে পুরোনো ভালোবাসা, দূরে থাকা বন্ধু, কিংবা পরিবারের এমন একজন মানুষ - যার সঙ্গে এখন আর তেমন দেখা হয় না বা সময় কাটানো হয় না।
মিস করা কি দুর্বলতা?না, কাউকে মিস করা স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। অনুভূতি অস্বীকার করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আবেগ স্বীকার ও প্রকাশ মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, শোক বা বিচ্ছেদের পর অনুভূতি গ্রহণ করা হিলিং প্রক্রিয়ার একটি ধাপ।
সামনে এগোনোর শক্তিহিলিং কখনও একদিনে হয় না। কারও অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া মানেই তাকে ভুলে যাওয়া নয়। বরং এটি নিজের ভেতরে জায়গা তৈরি করা - যাতে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন সম্পর্ক জায়গা পায়।
অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইকের এই দিনটি তাই কেবল একাকিত্বের নয়; এটি আবেগের সততা ও নিজেকে বোঝার দিন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, ভেদান্তু
এএমপি/জেআইএম