অর্থনীতি

আসছে ‌‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রথমেই কারা পাচ্ছেন?

১৮০ দিনের কর্মসূচি ঠিক করেছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। এরমধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে সবার আগে এর অন্তর্ভুক্ত হবেন হতদরিদ্ররা। জানা যাচ্ছে, ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্রদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবার বা ৫ কোটি পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে বল জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কীভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডপরীক্ষামূলক ৮ উপজেলায় চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের নানা সুবিধা এক জায়গায় আনতে চাই

জানা গেছে, ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। কমিটির কাজের মধ্যে আরও আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার আন্তঃযোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

কত পরিবারকে দেওয়া হবে?

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু সার্বজনীন। এটাতে কোনো রেস্ট্রিকশন থাকবে না। তবে এটা একটা কমিটি করা হয়েছে, হয়তো শুরু করবে হতদরিদ্র থেকে আরম্ভ করে, তারপর দরিদ্র, তারপর মধ্যবিত্ত, এভাবে যাবে।

এই রমজানেই কি এটি শুরু হচ্ছে?

ঈদের আগেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হবে এই কার্ড দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী চান পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে অন্তত ঈদের আগেই শুরু করতে। এটা তো চালু হবে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এটা আমাদের খালি মেকানিজমটা বের করছে, মানে কার্যক্রমটা কীভাবে চালু করবে সেটা নিয়েই কথা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে না। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি চলে যাবে পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দেন সেটির অন্যতম ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

সে সময় বিএনপির তরফে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

এসএনআর/জেআইএম