দেশজুড়ে

বগুড়ায় মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ, এমপির আশ্বাসে প্রত্যাহার

বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক গৃহবধূর মরদেহ নিয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার লিচুতলা দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত গৃহবধূর নাম চামেলী বেগম (৩৫)। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জুয়েলের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত বুধবার বিকেলে লিচুতলা দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে চামেলী বেগমসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার রাত দুইটার দিকে চামেলী বেগম মারা যান।

দুর্ঘটনায় আহত তার দুই বছরের শিশু সন্তান সোয়াদের একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। সে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকাল ১০টায় এলাকাবাসী লিচুতলা বাইপাস মোড়ে চামেলীর মরদেহ নিয়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের দুই লেন বন্ধ করে দিলে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এই মোড়ে দ্রুত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

অবরোধ চলাকালে ঢাকা থেকে আসা বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন সেখানে আটকা পড়েন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাফন ও চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেন।

এসময় তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওই স্থানে দ্রুত ওভারব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর ও শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, পুলিশের হস্তক্ষেপে ও সংসদ সদস্যের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এমএন/এএসএম