আন্তর্জাতিক

রমজানে আল-আকসায় প্রথম জুমার নামাজ আদায়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধা

রমজানের প্রথম জুমার দিন শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য আসা মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর থেকে আসা ফিলিস্তিনি অনেক মুসল্লিদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রবেশের জন্য অগ্রিম নিরাপত্তা অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়।

সকালে শত শত ফিলিস্তিনি জেরুজালেম ঘিরে থাকা সামরিক চেকপোস্টগুলোতে জড়ো হন এবং আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আগেই অনুমতিপত্র পাওয়া ব্যক্তিসহ অনেককেই মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

শহরে প্রবেশপথের চেকপোস্টগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। চেকপোস্টগুলোতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং কড়া নিরাপত্তা বলয় দেখা যায়।

ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের হাজারো বাসিন্দা কালানদিয়া চেকপোস্টে ভিড় করেছেন। শুক্রবার জুমার জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার জনের সীমা পূর্ণ হয়ে গেছে বলে অজুহাত দিয়ে দখলদার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ, নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।

একটি ফিলিস্তিনি অধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রমজানের আগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে গ্রেফতার অভিযান জোরদার করেছে এবং বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে।

ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক প্রস্তাবনায় ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম শহরটি দখল এবং ১৯৮০ সালে এর একতরফা সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরজুড়ে, জেরুজালেমসহ, অভিযান জোরদার করেছে। এসব অভিযানে হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘর ধ্বংস, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং বসতি সম্প্রসারণের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কেএম