সাহিত্য

অনন্য কাওছারের ফেব্রুয়ারির দুটি কবিতা

আহত বর্ণমালারাজপথ জড়িয়ে আছে আজ শ্বাপদের হিংস্রতা একমুঠো বীভৎস রোদের চিৎকার বাজে হৃদয়ে শতাব্দীর যন্ত্রণা মস্তিষ্কে টহল দিচ্ছে বেমালুম কোনোভাবেই সোজা হয়ে দাঁড়ানো যাচ্ছে না আমার মাটি পবিত্র, তবুও মানুষের মন নয়আমার জীবন বিশুদ্ধ, তবুও আমার হৃদয় নয়আমার স্বদেশ স্বাধীন, তবুও স্বাধীনতায় নয়আমার বর্ণমালা স্বাতন্ত্র্য, তবুও বাহান্নর মত নয়

স্বদেশি বর্ণমালা আজ একাত্তরের মত ভয়ানক রাজপথ মিছিল মিটিংয়ে এক অনিশ্চিত বাঙলারমুখোমুখি বসে আছি আমি, যে বাঙলার মুখ দেখিনি দেখেন নি আমার জীবনানন্দ দাশকোথায় যাচ্ছে স্বদেশের আকাশ, মাটি ও মানুষের জীবনকোথায় যাচ্ছে প্রকৃতি পাহাড়, নদীনালা, বনজঙ্গল কোথায় যাচ্ছে বাঙালির বিশুদ্ধ চেতনার নৈশপ্রহরী আমি এ কোন অচিন বাঙলার মুখোমুখি বসে আছি?

শকুনের পাশে যে ছবিটি কুৎসিতভাবে পড়ে আছে মিছিলের অগ্রভাগে রক্তাক্ত শরীরে যে যুবকমুখথুবড়ে মাটিতে পড়ে আছে রাজপথে, মিছিলে মিছিলে সে আমার লাল সবুজের ছিন্নভিন্ন মানচিত্র সে আমার হাড়ভাঙা আহত বর্ণমালা।

****

বর্ণমালার শরীরে ব্যারিকেডআমার মুখে আর একটি বিশুদ্ধ শব্দ নেই আমার চোখের মধ্যে আর একটি অশ্রুবিন্দু নেই আমার হৃদয়ে আর একটি প্রার্থনা নেই আমার মস্তিষ্কে আর কোনো স্বপ্নচারিতা নেইআমার ঠোঁটে আর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই

বুকের মধ্যে একটি অন্তহীন মর্মভেদী লাল উপনদী বুকে বেজে ওঠে বেদনার চিরায়ত সংগীত একেকটা নিশ্বাসে ফুটে হিরোশিমা নাগাসাকি বুঝেছি একেকটা প্রশ্বাসে জ্বলে ওঠে ভিসুভিয়াসসাইবেরিয়ার বরফ আঙুলে নিমজ্জিত অবহেলিত হাড্ডি,হাড়গোড়, মাথামুণ্ডু, শিরা-উপশিরা, মস্তিষ্ক;ছুঁয়েছে বর্ণমালার ভাঁজে বেদনার আইসবার্গ হতাশার নাইটিংগেল উড়ছে রোমানীয় আকাশে দীনতার লকলকে উল্কা ঘিরে ধরেছে আপাদমস্তক।

আমার হৃদয়ে আর কোনো বিশুদ্ধ হৃদয় নেইআমার প্রণয়ে আর প্রাচীনতম সবুজ প্রণয় নেইআমার মুখে আর একটি বিশুদ্ধ শব্দ নেই আর কোনো সফেদ প্রতিশ্রুতি নেইআমার পাঁজরে তীব্র হলহল উজবুক তিরস্কার অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে কাঁটাতারযুক্ত ব্যারিকেড।

কেএসকে