জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- সবই ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকারই একটি সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে জয়পুরহাট শহরের ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সালাম-বরকতদের রক্তে ভেজা রাজপথ আমাদের শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে। ১৭ বছরের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল একই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে সম্পদের সুষম বণ্টন, আইনের শাসন ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, প্রশাসনে পদায়ন ও মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি হবে সততা, দক্ষতা ও মেধা। এর কোনো বিকল্প নেই। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব।
এছাড়াও, বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দপ্তর ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ নানারকম আয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাহফুজ রহমান/এএমএ