আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কুয়াকাটা পৌরসভা প্রাঙ্গণে ফুল দিতে এসে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক প্রতিনিধিদের।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত কুয়াকাটা পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে ফুল হাতে অবস্থান নিলেও গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পার্শ্ববর্তী কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হেঁটে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
এ বিষয়ে আগতরা জানায়, মহান শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি থাকলেও গেট বন্ধ থাকায় বিএনপি এবং অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। পরে বিকল্প স্থানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, প্রতি বছরের মতো আমরা ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসি। কিন্তু পৌরসভার এমন গাফিলতি ও অবহেলায় আমরা হতবাক। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় দিবস পালনে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া যায় না।
ফুল হাতে অপেক্ষমাণ কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফিন্যান্স সেক্রেটারি মো. রাসেল খান বলেন, কুয়াকাটার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পৌর ভবনের মাঠের শহীদ মিনারটিকেই স্থানীয়রা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিবছর এখানে সবাই প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। কিন্তু এবার গেট বন্ধ থাকায় আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। গেট বন্ধ রাখার মাধ্যমে সবার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, জেলা থেকে নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পৌরসভার স্টাফদের অধিকাংশই কলাপাড়ায় ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গেট বন্ধ থাকার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চাবি পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এনএইচআর/এএসএম