ফিচার

রমজানে ‘হক আল লায়লা’ নামের এক বিশেষ আয়োজন হয় যে দেশে

রমজান মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য শুধুই ধর্মীয় পালনের সময় নয়, এটি সামাজিক সংহতি, উদারতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল উৎসব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান আসে বিশেষ আয়োজন এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হক আল লায়লা’ নামের অনুষ্ঠান। এই আয়োজনটি মূলত রমজানের ঠিক আগের মাস শাবান মাসের ১৫ তারিখে পালিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘হক আল লায়লা’ নামের এক বিশেষ আয়োজন করা হয় রমজানে। এদিন শিশুরা রঙিন পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়ি ঘুরে মিষ্টি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র উপহার সংগ্রহ করে। এসময় তারা খারিতা ব্যাগে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং সুর করে বলে ‘আতোনা আল্লাহ ইউতিকোম, বাইত মক্কা ইউদিকুম’, যার অর্থ ‘আপনারা আমাদেরকে দিন, আল্লাহ আপনাদের পুরস্কৃত করবেন এবং মক্কা পরিদর্শনের তৌফিক দেবেন।’

‘হক আল লায়লা’-র মূল উদ্দেশ্য হলো ছোটদের মাধ্যমে রমজানের তাৎপর্য এবং ইসলামের সামাজিক নীতি সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। এটি প্রমাণ করে যে রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়, বরং একে অপরের প্রতি দয়া ও উদারতার শিক্ষা দেয়া মাসও।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতোই কুয়েতে রমজানে শিশুদের জন্য আনন্দময় কিছু অনুষ্ঠান চলে। কুয়েতে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনব্যাপী ‘গারগিয়ান’ উদযাপন করা হয়। এ সময় শিশুরা আশেপাশের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে, গান গায় এবং মিষ্টি ও চকলেট সংগ্রহ করে। এটি মূলত শিশুদের মধ্যে সামাজিকতা এবং রমজানের আনন্দের বোধ তৈরিতে সহায়ক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান কেবল ধর্মীয় দিকেই নয়, সাংস্কৃতিক দিকেও সমৃদ্ধ। এ সময় মানুষ রাতের ইফতার পার্বণে একত্রিত হয়। শহরের প্রতিটি হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবার ঘরে বিশেষ ইফতার এবং সাহরার আয়োজন করা হয়। ইফতারে তারা রোজা ভাঙেন খেজুর দিয়ে এবং তারপর হালকা খাবার যেমন স্যুপ, সালাদ ও বিভিন্ন প্রকার স্যান্ডউইচ পরিবেশন করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত এবং ধর্মীয় আলোচনা ইফতার সময় অনেক পরিবারের মূল আকর্ষণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রচলিত খাবারের মধ্যে রয়েছে ‘হরিসা’, যা গম এবং মাংস দিয়ে তৈরি ঘন ও পুষ্টিকর খাবার, ‘লুবিয়া’, মিষ্টি গোলাকার বল সিরাপ বা চিনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়, এবং ‘সম্বুসা’, ভাজা পেস্ট্রি যা ভেতরে মাংস বা সবজি থাকে। এছাড়া দারুচিনি, নারকেল ও খেজুরের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও মিষ্টিও রমজানে জনপ্রিয়।

রমজান শুধু খাবার বা উৎসব নয়, এটি মানুষের মধ্যে দান, উদারতা ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দেয়। মানুষ মসজিদে জুমা ও তারাবীহ নামাজে অংশ নেয় এবং ইফতার বা সেহরির সময় দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের জন্য দান দেয়। রমজান বাজার বা ‘সুক’ বসে, যেখানে মানুষ খাদ্য, পোশাক ও উপহার সামগ্রী কিনতে পারে।

‘হক আল লায়লা’ এবং অন্যান্য রমজান অনুষ্ঠান শিশুদের মধ্যে দয়া, উদারতা এবং ধর্মীয় সচেতনতা গড়ে তোলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান উদযাপন এক সামাজিক বন্ধন, যেখানে পরিবার, প্রতিবেশী এবং সম্প্রদায় একত্রিত হয়। এই আয়োজন এবং রমজানের অন্যান্য কার্যক্রম রমজানকে শুধু উপবাসের মাস নয়, বরং উদারতা, দয়া ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাসে পরিণত করে।

আরও পড়ুনমশা কেন কানের কাছে এসেই গুনগুন করে? পানি নয়, এই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর হাত ধোয়ানো হয় চকলেটে

কেএসকে