পেটের গ্যাস, অম্বল বা ফাঁপাভাব-এগুলো অনেকেরইপ্র তিদিনের সমস্যা। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর ভারী লাগা, ঢেকুর ওঠা বা পেটে অস্বস্তি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ঘরোয়া সমাধান হিসেবে অনেকেই আদার রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সত্যিই কি রাতে আদার
রস খেলে গ্যাস কমে?আদা বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে রয়েছে জিঞ্জারল ও শোগাওল নামের সক্রিয় উপাদান, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে এবং হজম রস নিঃসরণে সহায়তা করে। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং গ্যাস জমার প্রবণতা কমে।
কেন রাতে আদার রস উপকারী?রাতে অনেক সময় আমরা ভারী বা তেল-ঝাল খাবার খাই। এতে হজম ধীরগতির হয় এবং পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। আদার রস পাকস্থলীতে জমে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য করে এবং ফাঁপাভাব কমায়। এছাড়া এটি বমিভাব ও অম্বল কমাতেও কার্যকর।
আদা অন্ত্রের গতি বাড়ায়, ফলে খাবার দীর্ঘ সময় পাকস্থলীতে আটকে থাকে না। এই কারণে রাতে অল্প পরিমাণ আদার রস খেলে ঘুমের আগে পেট হালকা অনুভূত হতে পারে।
যেভাবে খাবেন১ চা চামচ তাজা আদা কুচি করে রস বের করুন। এর সঙ্গে সামান্য কুসুম গরম পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে অল্প মধু বা লেবুর রসও যোগ করা যায়। খাবারের ২০-৩০ মিনিট পর এটি খেলে বেশি উপকার পাবেন।তবে খালি পেটে অতিরিক্ত আদার রস খাওয়া উচিত নয়, এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। প্রতিদিন ১ চা চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো।
সতর্ক থাকবেন যারাযাদের আলসার, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা পিত্তথলির সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত আদার রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গর্ভবতী নারী বা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদেরও সতর্ক থাকা উচিত।
আরও কিছু টিপসশুধু আদার রস খেলে হবে না, খাবারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয়।
পরিমিত পরিমাণে আদার রস রাতে গ্যাস কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি একটি সহজ, প্রাকৃতিক ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়। তবে যেকোনো সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই গ্যাসের সমস্যা কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, হেলথ লাইন ও অন্যান্য
আরও পড়ুন: শীতকালীন যে সবজি ওজন কমাতে সাহায্য করেযে কারণে ডাক্তার শীতে গাজর খেতে বলেন
এসএকেওয়াই/এমএস