আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ডজনখানেক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রোববার বলা হয়, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এ হামলায়। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।

রাতভর চালানো হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকা, কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওডেসা এবং মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ডনিপ্রো, কিরোভোহরাদ, মাইকোলাইভ, পোলতাভা ও সুমি অঞ্চলও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তিনি বলেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি খাত, তবে আবাসিক ভবন ও রেললাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্কো কূটনীতির চেয়ে হামলাতেই বেশি বিনিয়োগ করছে বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা তেমন অগ্রগতি পায়নি। রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের যেসব অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে ইউক্রেনকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে—যা কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক টেলিগ্রামে জানান, অন্তত একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাঁচটি জেলায় এক ডজনের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, রাতে জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৯৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭৪টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে লিখেছেন, এই সন্ত্রাস স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না; এটি থামাতে হবে। তিনি ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও গ্যাস খাতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। মস্কো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো বৈধ লক্ষ্য, কারণ এগুলোতে হামলা চালালে কিয়েভের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা কমে।

তবে কিয়েভের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য বেসামরিক জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশের মনোবল ভেঙে দেওয়া।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম