খেলাধুলা

সময় বদলেছে, বদলাতে হবে বাবরকেও

১৪৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা বাবর আজমের স্ট্রাইক রেট ১২৮.১৮। সাম্প্রতিক সময়ে তার স্ট্রাইক রেট আরও অনেক কমে গেছে। মাঝে একবার তাকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাকে আবার দলে আনা হয়েছে; কিন্তু বাবর আজমের ব্যাট ঠিকমতো চলছে না। বলের চেয়ে রান কম। স্ট্রাইক রেট তো কেবর নিচের দিকেই নামছে। এ কারণে বাবর আজমকে নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

এমনই এক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি বাবর আজমকে পরামর্শ দিয়েছেন, খেলার স্টাইল পাল্টানোর জন্য। এ জন্য তার সঙ্গে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন- এর খোলামেলা ও সৎ আলোচনারও আহ্বান জানিয়েছেন। প্লেসির মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বাবরের ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচের আগের দিন (যা শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়) হেসন মন্তব্য করেছিলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে বাবরের স্ট্রাইক রেট ছিল রান-প্রতি বলের নিচে। তাই ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে তাকে ব্যবহার করাই দলের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ অনুষ্ঠানে ডু প্লেসি বাবরকে ‘বিশ্বমানের খেলোয়াড়’ বলে উল্লেখ করলেও বলেন, টি-২০ ক্রিকেটের বিবর্তন এত দ্রুত হয়েছে যে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে বাবর কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন।

দু প্লেসিস বলেন, ‘খেলাটা এখন এতটাই এগিয়ে গেছে যে ১২০-১৩০ স্ট্রাইক রেট আর যথেষ্ট নয়। এখন প্রথম ছয় ওভার কাজে লাগাতে ১৬০ থেকে ২০০- এর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট প্রয়োজন। কোচ হিসেবে হেসনের ভাবনা হওয়া উচিত- কিভাবে বাবরের সেরাটা বের করে আনা যায়।’

তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কার ধীরগতির ও স্পিন-সহায়ক উইকেটে পাকিস্তান খেললে বাবরের মতো ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ে। সেখানে ইনিংস গড়ে তোলা ও মিডল ওভারে দলকে স্থিতিশীল রাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হতে পারে তার জন্য।

পাকিস্তানে বাবর আজমের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ফলে টি-টোয়েন্টিতে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনাও তীব্র। এশিয়া কাপ চলাকালীন তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। হেসন জানিয়েছিলেন, দলে ফিরতে হলে বাবরকে স্পিন খেলার দক্ষতা ও স্ট্রাইক রেট বাড়াতে হবে, বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। যদিও পরে ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে আবার দলে নেওয়া হয়।

দু প্লেসি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সততা। ‘সবকিছু শুরু হয় সৎ কথোপকথন দিয়ে। কোচ যদি পরিসংখ্যান সামনে রাখেন এবং স্পষ্ট করে বলেন দল কী চায়, তাহলে খেলোয়াড়ের জন্য অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তার সামনে দুটি পথ- হয় প্রতিবাদ করা, নয়তো নিজের উন্নতির জন্য কাজ করা।’

৩১ বছর বয়সী বাবর ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের দীর্ঘতম সময়ের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ১৪৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ও ৩৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এই অভিজ্ঞতার পর হঠাৎ করে নিজের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন আনা সহজ নয়।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দু প্লেসিস বলেন, স্পিনের বিপক্ষে তার প্রথম ১৫ বলের স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১২০, যেখানে পেসারের বিপক্ষে ছিল ১৮০। তিনি বুঝেছিলেন, উন্নতির জায়গা রয়েছে। নেটে নতুন শট অনুশীলন করা সহজ; কিন্তু ম্যাচে তা প্রয়োগ করা কঠিন ও অস্বস্তিকর। প্রথমদিকে ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিবর্তনই তাঁকে সফলতা এনে দেয়।

তিনি বলেন, ‘উন্নতি তখনই আসে, যখন আপনি অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যান। পরিবর্তন কঠিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেটাই সার্থক।’

দু প্লেসি সতর্ক করে দেন, এই আলোচনা যেন আক্রমণাত্মক না হয়। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই এমন কথোপকথন হওয়া উচিত। ‘আঙুল তুললে কেউ তা গ্রহণ করবে না। বরং এটা হওয়া উচিত অংশীদারিত্বের মতো- কিভাবে আমরা তোমার সেরাটা বের করে আনতে পারি এবং দলের জন্য আরও ভালো ফল নিশ্চিত করতে পারি।’

আইএইচএস/