দেশজুড়ে

টেকনাফের বাজারে অসময়ে কাঁচা আম, কেজি ৫৫০ টাকা

কক্সবাজারের টেকনাফে বাজারে উঠেছে কাঁচা আম। চাহিদা বেশি থাকায় আগাম এ আম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। প্রতিবছর দেড় থেকে দুই মাস আগে এখানকার গাছে আম ধরে এবং তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

টেকনাফ বাসস্টেশন বাজারে সবচেয়ে বেশি কাঁচা আম বিক্রি হয় ‘মামা-ভাগিনা’ নামের একটি ফলের দোকানে। দোকানের মালিক মো. ইউনুস বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে তারা বিভিন্ন ফলের পাশাপাশি কাঁচা আমও বিক্রি করছেন। গত সাতদিনে টেকনাফের বাহারছড়া, কচ্ছপিয়া ও সাবরাং এলাকা থেকে অন্তত ১২ লাখ টাকার কাঁচা আম সংগ্রহ করেছেন, যার বেশির ভাগ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে।’

টেকনাফ পৌরসভার আরেক দোকানদার জসিম উদ্দিন বলেন,‘ শীতের সময় বাজারে আম উঠবে— এমনটা অনেকে বিশ্বাস করতে চান না। তাই প্রথমে ক্রেতাদের বুঝিয়ে বলতে হয় যে এটি টেকনাফের স্থানীয় আগাম জাতের আম। কেজিপ্রতি দাম বেশি হলেও রমজানকে সামনে রেখে অনেকেই স্বাদ নেওয়ার জন্য কিনছেন। এ আমের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

পৌরসভার দোকানদার বাদশা মিয়া বলেন, ‘টেকনাফের আগাম এ আমের চাহিদা এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকাতেও পৌঁছেছে। ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা ভিন্ন স্বাদের নতুন ফল হিসেবে আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। মৌসুমের আগে বাজারে ওঠায় চড়া দাম হলেও বিক্রি কমছে না।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি সম্ভবত বারোমাসি স্থানীয় একটি জাত, যা দেশের অন্য কোথাও দেখা যায়নি। দেখতে মিল থাকলেও এটি রাংগুয়াই নয়। টেকনাফের আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আম দেড় থেকে দুই মাস আগে ফলন দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘টেকনাফ দেশের একেবারে দক্ষিণের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। এখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় অন্য এলাকায় শীতের আমেজ থাকলেও টেকনাফে তখনই আমগাছে মুকুল আসে। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে মুকুল থেকে গুটি এবং গুটি থেকে পূর্ণাঙ্গ আম হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।’

জাহাঙ্গীর আলম/আরএইচ/এএসএম