দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ ক্যাম্পাসের জন্য সুপরিচিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারেই দৃশ্যমান অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে। দৃষ্টিনন্দন নামফলকের অভাব, সরু রাস্তা, যানজট ও অপরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আগত অতিথিরা। প্রধান ফটকের এমন বেহাল অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও মর্যাদার সঙ্গে বেমানান বলেই মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান ফটকের প্রবেশদ্বারে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামসংবলিত বড় কোনো নামফলক বা পরিচয় চিহ্ন। তবে ফটকের সঙ্গে আড়াল করে লেখা ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’। কিন্তু সেটিও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সাজসজ্জার অভাবে তেমন দৃষ্টিনন্দন নয়। ফটকের প্রবেশদ্বারেই সরু রাস্তা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পার্কিং এ রাখা যানবাহনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশ পথেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রধান ফটকের দুই গেইট থাকলেও একটি গেইট সবসময় বন্ধ থাকে। এতে অন্য গেইট দিয়ে একই সঙ্গে প্রবেশ ও বাহির হতে হয়। তাছাড়াও প্রবেশদ্বারেই রিকশা, অটো, ভ্যান হরহামেশাই থেমে থাকায় অন্য কোনো গাড়ি আসতেই যানজটের সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান এই ফটক দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বহিরাগতরা যাতায়াত করেন। কিন্তু ফটকের বর্তমান বেহাল দশা জাবির সৌন্দর্য ও মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই বেমানান বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রধান ফটকের প্রবেশদ্বারের উপরে নামফলক বসানোসহ রাস্তা চড়া করা ও রিকশা, কার্ডের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় জাবি হলেও এর মেইন গেইট পরিচিত অপরপাশের ডেইরি ফার্মের জন্য। মানুষ জানেই না এটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট। শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন কোনো নামফলক বা তেমন পরিচিতি কিছু না থাকায় এটি জানে না। যা নাম লেখা তাও এমনভাবে যা মানুষের দৃষ্টিকটুর বাহিরে থাকে। প্রধান ফটকের এই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। নতুন আগত শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা অতিথিদের কাছে আমাদের জন্য এটি বিব্রতকরও।
আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মেইন গেইটের রাস্তা খুবই সরু। তার মধ্যে সবসময় রাস্তায় রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত কিংবা কার্ড, রিকশাগুলোর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথেই চলাচলে অসুবিধায় পড়তে হয়।
প্রধান ফটকের নিরাপত্তা শাখার গার্ড বলেন, প্রবেশের রাস্তা সরু হওয়ায় একটির জায়গায় দুইটি গাড়ি হলেই যানজট সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে বড় বড় কার্ড ও রিকশা। এর জন্য যানজটের প্রভাবও বেশি হয়। গেইটে বড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লেখা না থাকায় প্রায়ই মানুষ এসে জিজ্ঞাস করে মেইন গেইট কোনটি? বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার সময়।
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ফটকের প্রবেশদ্বারের সরু রাস্তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে রয়েছে। এছাড়াও তেমন নামফলক নেই। যেখানে নাম লেখা সেখানেও সঠিক পরিচর্যা করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, বাজেট স্বল্পতার জন্য কাজ করতে পারছেন না। তবে অতিদ্রুত কাজ করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, প্রধান ফটকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেখা জায়গায়ও সুন্দর ফুলের বাগান করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বাগান ও ফটক সংলগ্ন জায়গা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মচারীও নিয়োগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্ধে ফটকের পাশে সাইকেল বাইক পার্কিং এর জায়গাও করা হয়েছে।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/জেআইএম