বাড়িতে কোনো ভিক্ষুক এলে তাকে সরকারি রেশন ও অন্যান্য ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সংগ্রহ করা হতো তাদের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য ও সিম কার্ড। পরে সেই নম্বর দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে কল করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া হতো টাকা। তারপর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল নষ্ট করে লোপাট করে দেওয়া হতো প্রমাণ।
এমনই এক চতুর প্রতারক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মহানগরের পবা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫) ও তার স্বামী মো. মোবারক হোসেন (৫৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে সংগৃহীত ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্র এক নারীকে তার সুইডেন প্রবাসী মেয়ের পরিচয় দিয়ে ফোন করে জানায়, তিনি দেশে এসেছেন এবং এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও তার কাছে টাকা-পয়সা নেই। চিকিৎসার খরচের টাকার জন্য প্রতারক চক্র একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বর দেয়। ওই নারী প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে তার এক সন্তান প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত বছরের ২৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা পরে নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তর হয়।
মামলা তদন্তকালে জানা যায়, প্রতারক দম্পতি সুলতানা খাতুন ও মোবারক হোসেন প্রলোভন দেখিয়ে ভিক্ষুকদের নিজের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য নিতেন। পরে সে সিম ব্যবহার করে ভুক্তভোগী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিপদের কথা বলে টাকা চেয়ে ফোন করতেন। কখনো ভুক্তভোগীদের কেউ কণ্ঠস্বরে সন্দেহ পোষণ করলে বলতেন, ঠান্ডা-সর্দিতে কিংবা দুর্ঘটনার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে।
সুলতানা ও মোবারক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা অসংখ্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছেন। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খান।
টিটি/একিউএফ