ভ্রমণ

শিবচরের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু পার হলেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ। প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাওয়া-আসার সময় পরিবহনে থাকা যাত্রীদের খুব সহজেই দৃষ্টি কাড়ে মসজিদের সৌন্দর্য। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সূর্যনগরের পাশেই সংযোগ সড়কের সঙ্গে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটির নির্মাণশৈলীর সৌন্দর্য দেখে সবার নজর কাড়ে। রাত হলে তো কোনো কথাই নেই। রাতের অন্ধকারের মধ্যে আলোকসজ্জার কারণে মসজিদের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে মানুষ ভিড় করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পশ্চিম পাশে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী কলেজ ক্যাম্পাসেই মসজিদটি অবস্থিত। ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী কলেজ জামে মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ৩ বছর। ২০২০ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মুসলিমদের নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী ও তার পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটির অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য আছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো মসজিদের নির্মাণশৈলী, গম্বুজের কারুকাজ, মসজিদের ভেতরে আট পাখা বিশিষ্ট ৪টি বৈদ্যুতিক ফ্যান। বৈদ্যুতিক ফ্যানগুলো ১২ ফুট দৈর্ঘের। যা চীন থেকে আনা হয়েছে। ফ্যানগুলো পুরো মসজিদকে সার্বক্ষণিক শীতল রাখে। মসজিদে আরও আছে তুর্কি থেকে আনা ঝাড়বাতি। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ২৫ ফুট উঁচু। মসজিদের চারপাশে বড় আকারের একাধিক জানালা থাকায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তাছাড়া সন্ধ্যার পর মসজিদের লাইট জ্বালানো হলে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। যা চারপাশের অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের রঙিন আলোয় অন্যরকম ও ব্যতিক্রম এক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। যা দেখে যে কারো নজর কেড়ে নেয়। ফলে মসজিদ দেখার জন্য রাতেও লোকজন ভিড় করে।

আরও পড়ুন৫০০ বছরের নীরব সাক্ষী বাঘা শাহী জামে মসজিদ মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বরিশালের গুঠিয়া মসজিদ 

তাছাড়া প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে ছুটে আসেন। রমজান মাসে খতমে তারাবির নামাজে অংশ নিতেও মুসল্লিদের ভিড় দেখা যায়। এ মসজিদে একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুজন খাদেম আছেন। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ কমিটি মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

শিবচরের বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মসজিদটি মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতকারীদের সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। এ ছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য দর্শনার্থী দেখতে আসেন। দর্শনার্থীরা ছবি তোলেন, ভিডিও করেন। অনেকে নামাজও পড়েন। অনেক দর্শনার্থী সন্ধ্যার পর মসজিদের আলোকসজ্জা দেখেন। পাশের জেলাগুলো থেকেও পরিবার নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন।’

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী জামে মসজিদের ইমাম মুফতি নেয়ামতুল্লাহ রাহমানী বলেন, ‘মসজিদটি তাজমহলের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্য দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন। সন্ধ্যার পর এর আলোর জন্য মসজিদটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। যেখানে বিকেল থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত দর্শার্নীদের ভিড় বেশি দেখা যায়। তাই দিন দিন মসজিদের পরিচিতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।’

এওয়াইএসএ/এসইউ