সাবেক পেসার ও কোচ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ক্রিকেটার জাহানার আলম যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তদন্তে সেটি প্রমাণিত হওয়ার পর বিসিবি যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাকে ‘যথেষ্ট কঠোর’ বলে মনে করছেন বোর্ডের নারী বিভাগের প্রধান রুবাবা দৌলা। আপাতত এই ইস্যুতে বিসিবি আর কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না বলে বুধবার সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এই সদস্য।
গত রোববার বিসিবির বোর্ড সভায় মঞ্জুরুলকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের মূল ধারায় কাজ না করায় এই শাস্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন স্পর্শকাতর অপরাধের জন্য কেন আইনি ব্যবস্থা বা মামলা করা হচ্ছে না?এমন প্রশ্নের জবাবে রুবাবা দৌলা বলেন, আমরা লিগ্যাল ফিডব্যাক নিয়েছি। লিগ্যালি অ্যাসেস করা হয়েছে যে, বিসিবির কী কী রাইটস আছে বা ডিউটিজ আছে, যেগুলোর এক্সারসাইজ করতে পারে। সেভাবেই আমরা অ্যাকশন নিয়েছি, আপাতত যে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। আমি কর্পোরেটেও কাজ করেছি, ওখানেও আমাদের এই ধরনের হয়রানি, যৌন হয়রানির জন্য কিছু কঠোর প্রক্রিয়া আছে।
শাস্তির মাত্রা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রুবাবা মনে করেন বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন, আমার বিশ্বাস, বিসিবি থেকে যে অ্যাকশন আমরা নিয়েছি, এটা কঠোর অ্যাকশন নিয়েছি। সব ধরনের ক্রিকেটে... শুধু নারী নয়, পুরুষও, সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত নভেম্বরে, যখন এক সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়ে জাহানারা আলম অভিযোগ করেন যে, ২০২২ নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ চলাকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। একই সাথে সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
জাহানারা দাবি করেছিলেন, সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে বারবার লিখিত জানিয়েও তিনি কোনো বিচার পাননি।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিসিবি জানায়, জাহানারার করা চারটি অভিযোগের মধ্যে মঞ্জুুরুলের বিরুদ্ধে দুটির সত্যতা পাওয়া গেছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি পরে পাঁচ সদস্যে উন্নীত হয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, যার ওপর ভিত্তি করেই মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এসকেডি/এমএমআর