নোয়াখালীতে দোকানে তেলের ট্রাক ঢুকে বাবা সফিকুর রহমান (৬০) নিহতের ছয়দিন পর কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাইদুর রহমানও (২১) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনাপুর- কবিরহাট সড়কের বানদত্ত ট্রান্সমিটার নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সাইদুর রহমান নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এসময় ট্রাকটি রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে সফিকুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন ও সাইদুর রহমানসহ অন্তত তিনজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সফিকুর রহমান তার দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন। এ সময় মাইজদী–সোনাপুর সড়ক দিয়ে আসা তেলবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল ও সফিকুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানকে প্রথমে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাইদুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কে গতিরোধক ও উড়ালসেতুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
সাইদুর রহমানের বড় বোন সুমি আক্তার বলেন, ভাই ছয় দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিল। আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরে পেলাম না। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা বাবা ও ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ট্রাকের চালককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমএন/এমএস