গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনে বাধ্য হয়ে একে একে পদত্যাগ করেন ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সেখানে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের কেউ বিএনপিপন্থি, কেউ জামায়াতপন্থি বলে পরিচিত। দেড় বছর তারা অনেকটা একহাতে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় চালিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদলে এখন নড়বড়ে হঠাৎ ‘প্রতাপশালী’ হয়ে ওঠা উপাচার্যদের চেয়ার। কখন, কাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেই চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ নাটকীয়তায় অস্বস্তিতে পড়েছেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। ক্ষমতাসীন বিএনপিপন্থি বলে পরিচিতি উপাচার্যরা পদ টিকিয়ে রাখতে তদবির করছেন বলে জানা যাচ্ছে। যাদের তেমন দলীয় পরিচয় নেই, তারাও বসে নেই। গোপনে অনেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দেনদরবার করছেন। জানা গেছে, পদ টিকিয়ে রাখতে দৌঁড়ঝাপ করছেন অধিকাংশ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।
শঙ্কায় দিন কাটানো উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের ভাষ্য, সরিয়ে দিলে তাদের কিছুই করার নেই। তবে নিতে চান সম্মানজনক বিদায়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বঞ্চনার ইতিহাস সরকার-সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টাও করছেন তারা। দায়িত্বে রাখলে তারা বিএনপির সরকারের সঙ্গেও কাজ করতে চান বলেও আগ্রহের কথা জানা যাচ্ছে।
উপাচার্যরা অস্বস্তিতে, প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি‘নতুন সরকার এসেছে। সব জায়গায় তো পরিবর্তন আসবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। পদ থেকে সরিয়ে দিলে তো কিছু করার নেই। এখন প্রক্রিয়াটা (সরিয়ে দেওয়ার) যাতে সম্মানজনক হয়, সেটিই প্রত্যাশা।’ এসব কথা বলছিলেন দেশের বড় চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটির একজন উপাচার্য। গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান তিনি। তাকে ‘অন্তর্বর্তী সময়ের’ জন্য নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে ওই উপাচার্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু আমি না, অনেকেই (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) জানেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। কবে, কখন তা কেউ জানেন না হয়তো। কেউ সরে যেতে চাইছেন, কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একেবারে যারা গোড়া বিএনপি, তারা তদবির করছেন। হয়তো তারা টিকেও যাবেন।’
শুধু তিনি নন, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তারাও একই রকম উদ্বেগে দিন পার করছেন। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ শীর্ষ পদগুলোতে থাকা শিক্ষকদের এমন দোলাচলের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজেও। রুটিন বা নিয়মিত কাজ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তেমন কিছুই হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তার সেই অন্তর্বর্তী সময় এখনও চলমান। তাকে শিগগির সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারাও তাকে সরিয়ে নিয়োগ পেতে রীতিমতো মাঠে নেমেছেন।
আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র দিয়েই শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ী শুভেচ্ছা পেলেন ঢাবি ভিসি!
জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার উপাচার্য পদে নিয়োগ দিয়েছে। আমি কাজ করছি। সরকার সরিয়ে দিলে চলে যাবো। কোন সরকার নিয়োগ দিয়েছে, আর কোন সরকার সরিয়ে দিলো সেটা মুখ্য নয়। আমি জোর করে; তদবির করে নিয়োগ পাইনি। জোর করে বা তদবির করে থাকতেও চাই না। আমি কোনো আতঙ্কেও নেই।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি পূর্ণ মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। অধ্যাপক কামরুল আহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি দায়িত্বে আছি। কেউ কিছু বলেনি। দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্য ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর ফোরাম থেকে পদত্যাগ করে উপাচার্য পদে যোগ দেন। তিনি নিজেকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তাকে সরিয়ে দিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের চাপ রয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে উপ-উপাচার্য পদে থাকা দুজনের একজন জামায়াতপন্থি এবং আরেকজন ‘বিতর্কিত’।
জানতে চাইলে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। উপাচার্য পদে রাখা না রাখা নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চাই না। আমাদের সরে যেতে বললে আমরা নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবো। পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতা নেই।’
পদ বাঁচাতে অনেকের দৌড়ঝাঁপপদ আঁকড়ে থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে স্বীকার না করলেও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষরা টিকে থাকতে তদবির করছেন। অনেকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর অনেক উপাচার্যকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। কেউ এসে মন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন, কেউ আবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে গেছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী কোনো উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে অন্তত ৭ জন উপাচার্য মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন। তারা বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ কেউ মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করেছেন। তবে কেউ দেখা করতে পেরেছেন বলে শুনিনি। এর বাইরেও অনেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কী হতে যাচ্ছে, সেসবের খোঁজ-খবর চাইছেন।’
উপাচার্য রদবদল নিয়ে কী ভাবছে সরকার?উপাচার্যরা উদ্বিগ্ন, আর পদে পেতে আগ্রহী বিএনপিপন্থি শিক্ষকরাও বেশ তৎপর। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। তবে সরকার এ নিয়ে স্পষ্ট করে এখনও কিছু বলেনি।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ নিয়ে কৌশলী। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এখন কোনো সচিবও নেই।
তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, হঠাৎ করে এতসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনার ঝুঁকি নেবে না সরকার। ধীরে ধীরে রদবদল করা হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর বাইরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়াদের ব্যাপারে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কাউকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, কাউকে আবার পূর্ণমেয়াদে রেখেও দেওয়া হতে পারে। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবহিত করা হয়েছে। তিনি নিজেও এসব বিষয় জানেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিতে শুরু করলে এখন শিক্ষক রাজনীতিতে অচলাবস্থা হতে পারে। ছাত্ররাজনীতিতেও উত্তাপ বাড়তে পারে। সেজন্য একটি একটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বুঝে যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার পথে হাঁটবেন তিনি।’
কারা, কোন বিবেচনায় হয়েছিলেন উপাচার্যদেশে বর্তমানে ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেন। ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ায় উপাচার্য পদ শূন্য হয়। আর একটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন চালু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল, তার মধ্যে ২৯টির উপাচার্য বিএনপিপন্থি। চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থি উপাচার্য নিয়োগ করা হয়। বাকিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য তাদের কেউ বিএনপির সঙ্গে; আবার কেউ জামায়াতের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনায় থাকা আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া উপাচার্য নিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কারা উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাবেন, সেটি স্পষ্ট বলা আছে। সেই আইনেও নির্দিষ্ট করে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। যার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল উন্নত দেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। উপাচার্য নিয়োগের শুরুর দিকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শর্ত মেনে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই চিন্তায় সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করায় সবক্ষেত্রে শর্ত মানা সম্ভব হয়নি।
উপাচার্য নিয়োগে ‘আইনের ধারায়’ ফেরার তাগিদস্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিনেট অধিবেশনে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে উপাচার্য প্যানেল গঠন করা কথা। নির্বাচিত তিন সদস্যের প্যানেল থেকে রাষ্ট্রপতি বা আচার্য একজনকে নিয়োগ দেবেন। ৭৩’র অধ্যাদেশে থাকা এ নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে মানছে না কোনো সরকার। নতুন সরকারকে অধ্যাদেশ বা আইনের ধারায় ফেরার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
আরও পড়ুন:
শিক্ষামন্ত্রীর এক প্রশ্নে ‘নাজেহাল’ শিক্ষক নেতারা
শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবো না, রাষ্ট্র গড়বো: ববি হাজ্জাজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিনেটের মাধ্যমে নির্বাচিত উপাচার্য দরকার। তাহলে তিনি সরকারের পুতুল হবেন না। শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করতে পারবেন। এতদিন তো অনেক হলো। তাতে লাভ হয়নি, বরং লোকসান হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হাস্যকর অবস্থানে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন সরকারে যারা এসেছেন, তাদের বলবো আপনারা অধ্যাদেশ মেনে নির্বাচিত উপাচার্য বসান। দলকানা শিক্ষকদের বসিয়ে আর সর্বনাশ করবেন না।’
দলীয় সরকারের অধীনে নিজ দলের অনুগত-অনুসারী শিক্ষকদের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। আর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দলের অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে পদগুলো ‘ভাগাভাগি’ করে দেওয়া হয়েছিল বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বা প্রশাসনিক পদগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা উচিত। অথচ এটা কোনো সরকারই পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারও এক্ষেত্রে ব্যর্থ। নতুন সরকারের উচিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশাসন মেনে উপাচার্য নিয়োগ করা। এটা করতে পারলে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি কমবে।’
এএএইচ/এসএনআর/এএসএম