রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে অনেকেই চা, কফি বা ঠান্ডা সফট ড্রিংকস দিয়ে ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার সেহরিতেও একাধিক কাপ চা বা কফি পান করেন ঘুম কাটাতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা কার্বোনেটেড পানীয় কি রোজায় অ্যাসিডিটি বাড়ায়?
ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের বলেন, রোজায় খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকার পর হঠাৎ চা, কফি বা সফট ড্রিংকস পান করলে অ্যাসিডিটি বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়।
ছবি: ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের
কেন বাড়ে অ্যাসিডিটি?ডা. যোবায়ের দেওয়া তথ্য মতে, ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ায়। খালি পেটে কফি পান করলে বুকজ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। সফট ড্রিংকসে থাকা কার্বোনেশন ও অতিরিক্ত চিনি পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়। অনেক কোমল পানীয়তে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীর আস্তরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘রোজার সময় পাকস্থলী সংবেদনশীল থাকে। তাই ইফতারে সরাসরি চা বা কফি না খেয়ে আগে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা ভালো।’
ইফতারে চা-কফি কখন খাবেন?বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে সরাসরি চা বা কফি না খেয়ে প্রথমে পানি বা হালকা খাবার দিয়ে রোজা ভাঙা উচিত। প্রধান খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট পর চাইলে হালকা চা পান করা যেতে পারে। তবে কফির পরিমাণ সীমিত রাখা ভালো।
ডা. যোবায়ের বলেন, যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসার রয়েছে, তারা রোজায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
সফট ড্রিংকস কতটা ক্ষতিকর?ইফতারের টেবিলে অনেক সময় ঠান্ডা সফট ড্রিংকস জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে থাকে। কিন্তু এতে উচ্চমাত্রার চিনি ও গ্যাস থাকায় পেট ফাঁপা ও ঢেঁকুরের সমস্যা বাড়ে, অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়, দীর্ঘমেয়াদে ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে সর্তক করে ডা. যোবায়ের বলেন, গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলাই ভালো। এর বদলে পানি, লেবুপানি বা হালকা সুপ ভালো বিকল্প হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য রোজা উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? রোজায় গ্যাস্ট্রিক ও পেটের যত্নে মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ কারা বেশি ঝুঁকিতে? দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক রোগী আলসার রোগী উচ্চ অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি অতিরিক্ত চা-কফি পান করার অভ্যাস যাদের রয়েছে এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোজায় উপসর্গ আরও বাড়তে পারে। কী করবেন? ইফতারে হঠাৎ চা-কফি দিয়ে রোজা ভাঙবেন না। দিনে মোট চা-কফির পরিমাণ সীমিত রাখুন। সফট ড্রিংকসের বদলে পানি ও প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিন। সেহরিতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত বুকজ্বালা বা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।রোজায় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চা, কফি বা সফট ড্রিংকস সাময়িক সতেজতা দিলেও তা পেটের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সংযমই হতে পারে নিরাপদ রোজার মূলমন্ত্র।
ডা. এ.কে.এম. যোবায়েরের ভাষায়, ‘রোজায় সুস্থ থাকতে চাইলে খাবার ও পানীয় নির্বাচনে সচেতন হোন। অল্পে তৃপ্তি আর পরিমিতিই হলো সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।’
জেএস/