পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া বা সঙ্গীর পরকীয়ার খবর জানা-দুটিই জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি। এটি শুধু একটি সম্পর্কের সংকট নয় বরং পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
হঠাৎ করেই ভেঙে যেতে পারে বিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ আর আত্মসম্মান। রাগ, কষ্ট, অপমান, শূন্যতা-সব অনুভূতি একসঙ্গে আছড়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের মানসিক শক্তি ধরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে সামলাবেন এই সময়?
১. তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করুনপ্রথম ধাক্কায় আবেগ তীব্র থাকে। চিৎকার, অপমান বা সামাজিক মাধ্যমে কিছু প্রকাশ করার ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু মনে রাখুন, আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। নিজেকে কিছুটা সময় দিন। গভীর শ্বাস নিন, একা কিছুক্ষণ হাঁটুন, প্রয়োজন হলে কারো সঙ্গে কথা না বলে দিনটি কাটান। স্থিরতা ফিরে আসা পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।
২. নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন নাআমি ঠিক আছি বলে সব চাপা রাখলে ভেতরের ক্ষত আরো গভীর হয়। কষ্ট, রাগ বা অপমান-যা অনুভব করছেন, তা স্বাভাবিক। ডায়েরি লিখতে পারেন, কাছের বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের কারো সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। অনুভূতি স্বীকার করা মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ।
৩. আত্মসম্মানকে প্রাধান্য দিনপরকীয়া সঙ্গীর সিদ্ধান্ত, আপনার অযোগ্যতার প্রমাণ নয়। অনেকেই এই সময়ে নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করেন-আমার কি কোনো ঘাটতি ছিল? মনে রাখবেন, সম্পর্কের সমস্যার সমাধান গোপন সম্পর্ক নয়। নিজের মর্যাদা ও মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিন। নিজেকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই।
৪. খোলামেলা ও শান্ত আলোচনা করুনআবেগ কিছুটা কমলে সঙ্গীর সঙ্গে বসে কথা বলুন। অভিযোগের ভাষা না ব্যবহার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন-তোমার এই আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি। আলোচনা করুন-এই সম্পর্ক বাঁচাতে দুই পক্ষই কি আগ্রহী? নাকি আলাদা হওয়াই ভালো? পরিষ্কার ও সৎ সংলাপ ছাড়া ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কঠিন।
৫. কাউন্সেলিং বিবেচনা করুনপেশাদার কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের সাহায্য অনেক সময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। দাম্পত্য কাউন্সেলিং হলে দুই পক্ষই নিজেদের কথা বলতে পারেন নিরাপদ পরিবেশে। যদি একসঙ্গে না-ও যান, ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং আপনাকে মানসিকভাবে স্থির হতে সাহায্য করবে।
৬. সন্তান থাকলে তাদের কথা ভাবুনসন্তানের সামনে তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। তারা সব বুঝতে না পারলেও পরিবেশের টানাপোড়েন টের পায়। তাদের নিরাপত্তাবোধ বজায় রাখা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যার দায় কখনো সন্তানের ওপর চাপাবেন না।
৭. নিজের যত্ন নিনএই সময়ে খাওয়া-ঘুমের রুটিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শারীরিক সুস্থতা মানসিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম, প্রার্থনা বা মেডিটেশন-যা আপনাকে শান্ত করে, তা নিয়মিত করুন। নিজের পছন্দের কাজ-বই পড়া, গান শোনা, ভ্রমণ-মনকে ভারমুক্ত করতে সাহায্য করবে।
৮. সিদ্ধান্ত নিন নিজের কল্যাণ ভেবেসব সম্পর্ক একই রকম নয়। কেউ ক্ষমা করে নতুন করে শুরু করেন, কেউ আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেটাই করুন, তা যেন হয় নিজের মানসিক সুস্থতা ও মর্যাদাকে সামনে রেখে। সামাজিক চাপ বা লোকলজ্জার ভয়ে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদে কষ্ট বাড়তে পারে।
পরকীয়ার ধাক্কা গভীর, কিন্তু তা জীবনের শেষ নয়। সময়, সচেতনতা আর আত্মসম্মান ধরে রাখার চেষ্টাই আপনাকে আবার দাঁড়াতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, মানসিক শক্তি মানে কাঁদবেন না-তা নয়; বরং কষ্টের মাঝেও নিজেকে হারিয়ে না ফেলা।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, ভেরিওয়েল মাইন্ড
আরও পড়ুন: আলপাইন ডিভোর্স, প্রেমের ট্রেন্ড নাকি ভয়ের গল্প? নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে
এসএকেওয়াই