লাইফস্টাইল

কয়েকদিন রোজা রাখার পর হঠাৎ ডায়রিয়া? কারণ জানুন, এখনই সতর্ক হোন

রমজানের কয়েকদিন ভালোভাবে রোজা রাখার পর হঠাৎ পেট খারাপ, পাতলা পায়খানা বা দুর্বলতা - অনেকেই এমন সমস্যায় পড়েন। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ভেবে এড়িয়ে গেলেও এটি ডায়রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

রোজার সময় খাদ্যাভ্যাস, পানির পরিমাণ ও ঘুমের রুটিন বদলে যায়। ফলে হজমতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো সামান্য অসতর্কতার সঙ্গে মিললেই ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কেন রোজার কয়েকদিন পর ডায়রিয়া হতে পারে? ১. দীর্ঘ সময় না খেয়ে হঠাৎ ভারী খাবার

সারাদিন খালি পেটে থাকার পর ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মসলাযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার খেলে অন্ত্রে হঠাৎ চাপ পড়ে। এতে হজমে সমস্যা হয় এবং পাতলা পায়খানা শুরু হতে পারে।

২. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

রোজায় পানিশূন্যতা খুব সাধারণ বিষয়। ইফতার ও সেহরির মাঝে পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

৩. দূষিত বা বাসি খাবার

ইফতারের অনেক খাবার দীর্ঘ সময় খোলা থাকে। গরমে এসব খাবারে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, খাদ্যবাহিত জীবাণুই ডায়রিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

৪. অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম পানীয়

অতিরিক্ত শরবত, কোমল পানীয় বা খুব মিষ্টি খাবার অন্ত্রে পানি টেনে নেয়, ফলে পাতলা পায়খানা হতে পারে।

৫. সংক্রমণ

ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণও কারণ হতে পারে। বিশেষ করে হাত ধোয়ার অভ্যাসে ঘাটতি থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, সঠিক হাত ধোয়া ডায়রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

কী করবেন?

প্রথমেই ভয় না পেয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করুন। হালকা ডায়রিয়া হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করুন। ওরস্যালাইন অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে পানিশূন্যতা ঠেকাতে। বাংলাদেশে আইইডিসিআর-এর পরামর্শ অনুযায়ী, পাতলা পায়খানায় শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা জরুরি।

খাবারের ক্ষেত্রে সেদ্ধ ভাত, কলা, টোস্ট বা হালকা স্যুপ খেতে পারেন। ভাজাপোড়া, দুগ্ধজাত ভারী খাবার ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলুন।

তবে কিছু সতর্ক সংকেত থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

>> বারবার বমি

>> উচ্চমাত্রার জ্বর

>> রক্তমিশ্রিত পায়খানা

>> তীব্র দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা

>> শিশু, বয়স্ক বা ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত অবনতি

রোজা কি চালিয়ে যাবেন?

হালকা ডায়রিয়ায় অনেকে রোজা রাখতে চান। কিন্তু যদি শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সুস্থতা আগে। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রোজা রাখা ধর্মেও নিরুৎসাহিত।

প্রতিরোধই সেরা কৌশল

ইফতারের খাবার ঢেকে রাখুন। বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খান। ইফতার ও সেহরির মাঝে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে খাবার শুরু করুন—খালি পেটে হঠাৎ অতিরিক্ত খাবেন না।

রোজা আধ্যাত্মিক প্রশান্তির সময়। কিন্তু শরীরের সিগন্যাল উপেক্ষা করলে ছোট সমস্যা বড় হতে সময় লাগে না। তাই সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, আইইডিসিআর বাংলাদেশ

এএমপি/এমএস